কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নে পীরের আস্তানায় হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ এবং সুফি সাধক আব্দুর রহমান শামিমকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় গভীর শোক, তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্য। একই সঙ্গে সংগঠনটি অভিযোগ করেছে, সরকারের নিস্পৃহতার কারণেই দেশে সহিংসতা বাড়ছে।
আজ রোববার সংগঠনটির আহ্বায়ক জামসেদ আনোয়ার তপনসহ কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির নেতারা এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিকে পুঁজি করে ‘তৌহিদি জনতার’ নাম ব্যবহারকারী নব্য ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে দেশে ভিন্নমতের কণ্ঠরোধে অপচেষ্টা চালিয়ে আসছে। তাদের ধারাবাহিক সহিংসতায় মাজার ও মন্দির ভাঙচুর, বাউলআখড়ায় অগ্নিসংযোগ এবং সাধকদের ওপর শারীরিক নির্যাতনের ঘটনা ক্রমেই বেড়ে চলেছে। এমনকি ভিন্ন লিঙ্গীয় পরিচয়ের মানুষ ও তাঁদের পক্ষে অবস্থান নেওয়া ব্যক্তিরাও প্রকাশ্যে চলাচলের সময় হামলার শিকার হচ্ছেন। দুঃখজনক হলেও সত্য, সরকারের নিস্পৃহতার কারণেই এসব ঘটনা বারবার ঘটে চলেছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, প্রত্যেক মানুষের নিজস্ব বিশ্বাস ও মতাদর্শ অনুযায়ী ধর্ম পালনের অধিকার রয়েছে। যারা নিজেদের বিশ্বাস অন্যের ওপর জোরপূর্বক চাপিয়ে দিতে চায় এবং ভিন্নমতের মানুষের ওপর আক্রমণে উসকানি দেয়, তাদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি।
নেতারা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের অনিশ্চিত সময় পার হওয়ার পরও বর্তমান শাসনামলে এ ধরনের পৈশাচিক হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হওয়া অত্যন্ত নিন্দনীয়। সম্প্রতি সিলেটেও একটি মাজারের ধর্মীয় অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় সরকারের কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ অনুপস্থিত বলেই প্রতীয়মান হয়।
গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্য আশা করে, সরকার দ্রুত মব সন্ত্রাসীদের কঠোরভাবে দমন করবে এবং সমাজের সব মত ও পথের মানুষের জন্য মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপন ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করবে।
নেতারা অবিলম্বে পীরের আস্তানায় হামলাকারী ও আব্দুর রহমান শামিমের হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। একই সঙ্গে তাঁরা প্রত্যাশা করেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কেবল বক্তব্যে নয়, কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুনঃপ্রতিষ্ঠায় দৃঢ় ভূমিকা রাখবেন এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেবেন।