হোম > সারা দেশ > কুমিল্লা

হোমনায় কবরস্থানের জমি দখলের অভিযোগ, গ্রামবাসীর মানববন্ধন-বিক্ষোভ

হোমনা (কুমিল্লা) প্রতিনিধি

জমি দখলের প্রতিবাদে আজ বাগমারা গ্রামে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন স্থানীয়রা। ছবি: আজকের পত্রিকা

কুমিল্লার হোমনায় ওয়াকফ করা কবরস্থানের জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগকে কেন্দ্র করে গ্রামবাসীর মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। জমি দখলের প্রতিবাদে বুধবার বাগমারা গ্রামে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন স্থানীয়রা। এ নিয়ে যেকোনো সময় বড় ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন গ্রামবাসী।

স্থানীয়দের দাবি, বাগমারা গ্রামের সমাজসেবক মো. জাহাঙ্গীর আলম ২০০০ সালে কবরস্থানের জন্য ৩০ শতাংশ জমি ওয়াক্ফ করে দেন। এর পর থেকে ওই জমিতে গ্রামের মৃত ব্যক্তিদের দাফন করা হয়ে আসছে।

সম্প্রতি কামাল হোসেন নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি ওই জমি নিজের দাবি করছেন বলে অভিযোগ ওঠে। গ্রামবাসীর ভাষ্য, জাহাঙ্গীর আলমের অংশীদারের কাছ থেকে জমিটি কিনেছেন বলে দাবি করছেন কামাল। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এর প্রতিবাদেই বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়।

হোমনা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও বাগমারা গ্রামের বাসিন্দা মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ২০০০ সালে ৩০ শতাংশ জমি কবরস্থানের নামে ওয়াক্ফ করা হয়। এরপর দীর্ঘদিন ধরে সেখানে দাফন কার্যক্রম চলছে। এখন কেউ ওই জমি দখলের চেষ্টা করলে গ্রামবাসী তা প্রতিহত করবে।

গ্রামের বাসিন্দা মো. বাবুল মিয়া প্রধান জানান, জমিটি ওয়াক্ফ করার সময় তিনি উপস্থিত ছিলেন। তাঁর দাবি, প্রায় ২৬ বছর ধরে কবরস্থান হিসেবে ব্যবহৃত হলেও এত দিন জমিটি নিয়ে কোনো বিরোধ হয়নি। এখন অংশীদারের কাছ থেকে জমি কেনার দাবি করে কেউ কবরস্থানের জমি দখল করতে চাইলে গ্রামবাসী তা মেনে নেবে না।

মানববন্ধন ও বিক্ষোভ শেষে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য দেন হোমনা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. আবুল হোসেন, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক মো. নাহিদ হাসান এবং ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. শফিকুল ইসলাম খায়েরসহ স্থানীয়রা। বক্তারা কবরস্থানের জমি নিয়ে বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধানের দাবি জানান।

তবে জমি দখলের অভিযোগ অস্বীকার করে কামাল হোসেন বলেন, তিনি অংশীদারদের কাছ থেকে জমিটি কিনেছেন এবং এ বিষয়ে তাঁর কাগজপত্র রয়েছে। নিজের কেনা জমি তিনি দখলে নেবেন।

হোমনা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নুসরাত জাবীন বলেন, তিনি সম্প্রতি এ উপজেলায় যোগ দিয়েছেন। কবরস্থানের জমি দখলের বিষয়ে কেউ তাঁকে লিখিত বা মৌখিকভাবে কিছু জানাননি। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখবেন তিনি।

জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তি না হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে বড় ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।