হোম > সারা দেশ > কুমিল্লা

ভর্তি ফরমে ‘মুজিব শতবর্ষ’ ও আওয়ামী স্লোগান, দুই প্রভাষককে শোকজ

ব্রাহ্মণপাড়া (কুমিল্লা) প্রতিনিধি 

ব্রাহ্মণপাড়ার চান্দলা করিম বক্স হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ। ছবি: আজকের পত্রিকা

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ার চান্দলা করিম বক্স হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের একাদশ শ্রেণির ভর্তি ফরমে শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্লোগান ব্যবহারের অভিযোগে দুই প্রভাষককে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত নোটিশে এই নির্দেশনা জারি করা হয়।

নোটিশপ্রাপ্ত দুই শিক্ষক হলেন—কলেজ শাখার ইনচার্জ ও ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক মো. আবুল কালাম আজাদ এবং গণিত বিভাগের প্রভাষক মো. আল আমিন।

একাদশ শ্রেণির ভর্তি ফরমে শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্লোগান। ছবি: সংগৃহীত

নোটিশে বলা হয়, ২১ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠানপ্রধানকে না জানিয়েই ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের একাদশ শ্রেণিতে শিক্ষার্থীদের বিগত ফ্যাসিবাদের লোগো ও স্লোগান-সংবলিত ভর্তি ফরম বিতরণ করে ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ আইন পরিপন্থী। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের জন্য কেন তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা নোটিশ প্রাপ্তির সাত কর্মদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় অবগতি ও ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নোটিশের অনুলিপি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে চান্দলা করিম বক্স হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, ‘আমার অবগতির বাইরে ভর্তি ফরমে ওই লোগো ও স্লোগান ব্যবহার করা হয়েছে। বিষয়টি জানার পর সংশ্লিষ্ট দুই শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তাঁদের লিখিত জবাব পাওয়ার পর বিধি অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’

উল্লেখ্য, ২১ সেপ্টেম্বর চান্দলা করিম বক্স হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজে একাদশ শ্রেণির ভর্তি কার্যক্রম শুরু হলে শিক্ষার্থীদের দেওয়া ফরমে শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি, ‘মুজিব শতবর্ষ’ লোগো এবং ‘শিক্ষা নিয়ে গড়ব দেশ, শেখ হাসিনার বাংলাদেশ’ স্লোগান-সংবলিত ফরম দেখতে পান স্থানীয়রা। বিষয়টির ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় অভিভাবক ও রাজনৈতিক কর্মীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষের সৃষ্টি হয়। তীব্র সমালোচনার মুখে কলেজ পরিচালনা পর্ষদের আহ্বায়ক কমিটি কলেজ শাখা ইনচার্জকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতির নির্দেশ দেয় এবং ঘটনা তদন্তে কমিটি গঠন করে।