হোম > সারা দেশ > কুমিল্লা

মেঘনায় ট্রলারডুবি: নিখোঁজ ৪ জনের ৩ মরদেহ উদ্ধার, জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন

হোমনা (কুমিল্লা) প্রতিনিধি

আজ সকালে সোনারগাঁ থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহ তিনটি শ্রীমদ্দি গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। ছবি: আজকের পত্রিকা

মেঘনা নদীতে ট্রলারডুবির ঘটনায় নিখোঁজ কুমিল্লার হোমনা উপজেলার শ্রীমদ্দি গ্রামের একই পরিবারের চারজনের মধ্যে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। দুই দিন পর আজ ভোরে মেঘনা নদী থেকে হেলাল মিয়ার বড় মেয়ে সামিয়া, বড় ছেলে সজীব ও ছোট ছেলে শামীমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় এখনো নিখোঁজ রয়েছেন তাদের বাবা হেলাল মিয়া।

সকালে সোনারগাঁ থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহ তিনটি শ্রীমদ্দি গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। মরদেহ বাড়িতে পৌঁছালে স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। খবর পেয়ে শত শত মানুষ বাড়িতে ভিড় করেন।

পরে সজীব ও শামীমের জানাজা গ্রামের ঈদগাহ মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে তাদের চরিত্রকোনা কবরস্থানে দাফন করা হয়। আর সামিয়ার জানাজা শেষে তাকে কালিকাপুর কবরস্থানে দাফন করা হয়।

নিহত ব্যক্তিদের মামা হায়াত মিয়া জানান, আজ ভোরে মেঘনা নদীতে তিনজনের মরদেহ ভেসে ওঠে। পরে স্বজনরা তাদের শনাক্ত করেন। এরপর অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহগুলো শ্রীমদ্দি গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসা হয়।

প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার ট্রলারে করে সোনারগাঁয়ের বৈদ্যেরবাজারে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে ঝড়ের কবলে পড়ে ট্রলারটি মেঘনা নদীতে ডুবে যায়। এ সময় ট্রলারে থাকা পাঁচজন পানিতে ডুবে নিখোঁজ হন। পরে রাইসা বেগম নামে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তবে হেলাল মিয়া ও তার তিন সন্তানসহ বাকি চারজনের সন্ধান পাওয়া যায়নি।

মরদেহ বাড়িতে পৌঁছালে স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। ছবি: আজকের পত্রিকা

এরপর দুই দিন ধরে উদ্ধার অভিযান ও খোঁজাখুঁজির পর আজ ভোরে মেঘনা নদী থেকে হেলাল মিয়ার তিন সন্তানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এদিকে নিহতদের স্বজনদের সান্ত্বনা দিতে শ্রীমদ্দি গ্রামের বাড়িতে যান উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নুসরাত জাবীন ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম। তারা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারের সদস্যদের আর্থিক সহায়তার আশ্বাস দেন।

মরদেহ বাড়িতে আনার পর শত শত মানুষ সেখানে ভিড় করেন। স্বজনদের কান্না ও আহাজারিতে পুরো এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া।