হোম > সারা দেশ > কুমিল্লা

চকলেটের লোভ দেখিয়ে ৫ বছরের শিশুকে ধর্ষণচেষ্টা, থানায় মামলা

দেবিদ্বার (কুমিল্লা) প্রতিনিধি। 

কুমিল্লার দেবিদ্বারে চকলেটের লোভ দেখিয়ে পাঁচ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী মাজহারুল ইসলামের (২৫) বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় শিশুটির চাচি বাদী হয়ে গত ৮ অক্টোবর মাজহারুলকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেছেন। পুলিশ বলছে, অভিযুক্ত পলাতক।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ৫ অক্টোবর বেলা আনুমানিক ৩টার দিকে মাজহারুল গ্রামের একটি পরিত্যক্ত ঘরে নিয়ে যান শিশুটিকে। চকলেট দেওয়ার কথা বলে তিনি শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন।

বাদী বলেন, শিশুটির বাবা মারা যাওয়ার পর মা ও শিশুটির দেখাশোনা তাঁরাই করে আসছেন। ঘটনার পর শিশুটি ব্যথায় চিৎকার ও কান্নাকাটি করলেও শুরুতে বিষয়টি তাঁরা বুঝতে পারেননি। পরে শিশুটির সঙ্গে কথা বলে বিস্তারিত জানার পর থানায় মামলা করা হয়।

বাদীর ভাষ্য অনুযায়ী, ধর্ষণের চেষ্টাকালে শিশুটি যন্ত্রণায় কান্না করলে মাজহারুল তার মুখ চেপে ধরেন। এ সময় পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় এক ব্যক্তি শিশুটির গোঙানির শব্দ শুনে বাড়ির লোকজনকে ডাকেন। পরে লোকজন ঘটনাস্থলে গেলে মাজহারুল পালিয়ে যান।

ঘটনার পর শিশুটিকে স্থানীয় একজন চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসা দেওয়া হয়। বাদীর অভিযোগ, আইনগত পদক্ষেপ না নিতে অভিযুক্ত ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা স্থানীয়ভাবে সালিসের মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তির অনুরোধ করেছিলেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, ৭ অক্টোবর সামাজিক সালিসে মাজহারুল ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেন। সালিসে তাঁকে ১০টি জুতাপেটা ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় বলে দাবি স্থানীয়দের। ওই রায়কে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারিতে অভিযুক্তের বড় ভাই নুরুল ইসলাম ব্যাপারী গুরুতর আহত হন। তাঁকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

অভিযুক্ত মাজহারুল ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা ৯ অক্টোবর নিজ এলাকায় মানববন্ধন করে ঘটনাটি সাজানো ও মিথ্যা বলে দাবি করেন।

দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘মামলা হওয়ার পর শিশুটির ডাক্তারি পরীক্ষা করানো হয়েছে এবং আদালতে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ২২ ধারায় তার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে। অভিযুক্ত পলাতক থাকায় তাঁকে এখনো গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।