কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া বাজারে পাঁচ বছরের ইসরাত জাহান ও ১৮ মাস বয়সী রোজা মনিকে রেখে চলে যান তাদের মা। মায়ের অপেক্ষায় বাজারে ছোটাছুটি করা শিশু দুটির অসহায়ত্বের খবর ছড়িয়ে পড়লে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান। শিশু দুটির জন্য তিনি পাঠিয়েছেন শিশুখাদ্য ও আর্থিক সহায়তা।
গতকাল মঙ্গলবার রাতে পুলিশ সুপারের পক্ষ থেকে ব্রাহ্মণপাড়ায় শিশু দুটির বাড়িতে গিয়ে তাদের হাতে উপহার ও আর্থিক সহায়তা তুলে দেওয়া হয়। বর্তমানে শিশু দুটি তাদের বাবা নূর মোহাম্মদ নাছির আলমের হেফাজতে রয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১২ বছর আগে কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার বাসিন্দা জেসমিন আক্তারের সঙ্গে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার নাল্লা গ্রামের নূর মোহাম্মদ নাছির আলমের বিয়ে হয়। তাঁদের সংসারে দুই কন্যাসন্তানের জন্ম হয়। তবে পারিবারিক মনোমালিন্যের জেরে প্রায় ছয় মাস আগে তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। এরপর দুই মেয়েকে নিয়ে বাবার বাড়িতে বসবাস করছিলেন জেসমিন। এর মধ্যে তিনি অন্যত্র বিয়ে করেন।
গত রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুরে দুই মেয়েকে নিয়ে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা সদর বাজারে আসেন জেসমিন। একপর্যায়ে তিনি শিশু দুটিকে চিপস কিনে দেন। পরে মোবাইল ফোনে সাবেক স্বামী নূর মোহাম্মদ নাছির আলমকে ফোন করে সন্তানদের বাজার থেকে নিয়ে যেতে বলেন। নাছির আলম তখন কুমিল্লা শহরে অটোরিকশা চালাচ্ছিলেন বলে জানান। এ সময় দুই মেয়েকে বাজারের সড়কের পাশে রেখে কুমিল্লা চলে যান জেসমিন।
মাকে আশপাশে না পেয়ে বাজারে ছোটাছুটি করতে থাকে শিশু দুটি। তাদের অসহায় অবস্থায় দেখে এগিয়ে আসেন স্থানীয় লোকজন। পরে শিশু দুটির চাচি শিরিনা বেগম বাজারে গিয়ে তাদের শনাক্ত করেন এবং নিজ বাড়িতে নিয়ে যান। এরপর বাবা নূর মোহাম্মদ নাছির আলম শিশু দুটিকে নিজের হেফাজতে নেন।
ঘটনাটি জানাজানি হলে শিশু দুটির প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করেন কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান। তাঁর নির্দেশনায় ব্রাহ্মণপাড়া থানা-পুলিশের মাধ্যমে শিশু দুটির জন্য শিশুখাদ্য ও আর্থিক সহায়তা পাঠানো হয়।
ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফারুক হোসেন বলেন, ঘটনাটি জানার পর কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান শিশু দুটির প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করেন। তাঁর পক্ষ থেকে মঙ্গলবার শিশু দুটিকে শিশুখাদ্য ও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। পুলিশ সুপারের নির্দেশে ব্রাহ্মণপাড়া থানা-পুলিশ এসব উপহার ও সহায়তা তাদের কাছে পৌঁছে দিয়েছে।