কুমিল্লার হোমনা থেকে সোনারগাঁয়ের বৈদ্যের বাজারে বিয়ের অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে মেঘনা নদীতে ঝড়ের কবলে পড়ে ট্রলারডুবির ঘটনা ঘটেছে। এতে রায়েসা আক্তার (৫০) নামের এক নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় একই পরিবারের চারজনসহ এখনো অন্তত চারজন নিখোঁজ রয়েছেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ৩টার দিকে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার বৈদ্যের বাজার ইউনিয়নের সোনাময়ী এলাকার আমান সিমেন্ট কারখানার সংলগ্ন মেঘনা নদীতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত রায়েসা বেগম ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার কাইল্লাপুর গ্রামের জাকির হোসেনের স্ত্রী। তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে ট্রলারডুবিতে নিখোঁজ চারজন হলেন—হেলাল উদ্দিন (৫৪), তাঁর দুই ছেলে সজিব হোসেন (২৪) ও সামিন হোসেন (৫) এবং মেয়ে সামিয়া আক্তার (১৭)।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লার হোমনা উপজেলার শ্রীমুদ্দি গ্রাম থেকে সোনারগাঁয়ের বৈদ্যের বাজার ইউনিয়নের হাড়িয়া বৈদ্যপাড়ার বাসিন্দা শাহপরানের মেয়ে সাজিয়া আক্তারের বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ১৩ জন স্বজন একটি ট্রলারে রওনা হন। বিয়ের অনুষ্ঠান উপলক্ষে তাঁদের সঙ্গে দুটি গরু, একটি খাসি ও বিয়ের বাজার ছিল।
ট্রলারটি মেঘনা নদীর সোনাময়ী এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎ তীব্র ঝড়ের কবলে পড়ে ডুবে যায়। এ সময় আশপাশে থাকা আমান সিমেন্ট কোম্পানির একটি ট্রলার দ্রুত এগিয়ে এসে আটজনকে জীবিত উদ্ধার করতে পারলেও রায়েসা বেগমসহ একই পরিবারের চারজন তলিয়ে যান। পরে রায়েসা বেগমের ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করা হলেও বাকি চারজনের খোঁজ মেলেনি।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বৈদ্যেরবাজার নৌফাঁড়ি পুলিশের ইনচার্জ পরিদর্শক শাহ কামাল জানান, বিয়ের আয়োজনের মালামাল ও গবাদিপশু নিয়ে আসার পথে ঝোড়ো হাওয়ার কবলে পড়ে ট্রলারটি ডুবে যায়। এতে একজন মারা গেছেন এবং চারজন নিখোঁজ রয়েছেন। খবর পাওয়ার পরপরই নৌ পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধার অভিযান শুরু করেন।
সোনারগাঁ ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মকর্তা জাহিদ চৌধুরী জানান, ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা খবর পেয়েই নদীতে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন এবং সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত অভিযান চালান। তবে রাতে অন্ধকার নেমে আসায় নদীর পানিতে ডুবুরি দলের কার্যক্রম ব্যাহত হয়।
পরে আজ শুক্রবার সকাল থেকে মেঘনা নদীর সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও নৌ পুলিশ তল্লাশি চালাচ্ছে। স্থানীয়রাও তাঁদের সঙ্গে উদ্ধার অভিযানে অংশ নিয়েছেন। তবে তীব্র স্রোত ও নদীর গভীরতার কারণে অভিযান ব্যাহত হচ্ছে বলে জানা গেছে।
এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত উদ্ধার অভিযানের অগ্রগতি নিয়ে ফায়ার সার্ভিস বা নৌ পুলিশের দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো কর্মকর্তার আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।