কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের বিচার আবেগের ভিত্তিতে নয়, আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছেন কুমিল্লা জেলা পিপি অ্যাডভোকেট কাইমুল হক রিংকু। দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সঠিক অভিযোগপত্র দাখিলের আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।
অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে মতবিনিময় করেছে কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতি। আজ মঙ্গলবার বিকেল ৫টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কনফারেন্স কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত, নির্ভুল অভিযোগপত্র দাখিল এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িত প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন সরকার, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন, বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
কুমিল্লা জেলা পিপি অ্যাডভোকেট কাইমুল হক রিংকু, জিপি অ্যাডভোকেট তারেক আব্দুল্লাহ, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. শহীদুল্লাহসহ সমিতির নেতারা সভায় অংশ নেন।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম বলেন, অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রত্যেকের ভূমিকা তদন্তের মাধ্যমে উদ্ঘাটন করতে হবে। আসামিদের বয়স নিয়ে কোনো অস্পষ্টতা থাকলে যথাযথ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষার মাধ্যমে তা নির্ধারণ করতে হবে।
উপাচার্য বলেন, ঘটনার পেছনে কোনো অপরাধচক্র বা পৃষ্ঠপোষকের সম্পৃক্ততা থাকলে তাদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে। অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের ঘটনাকে কোনোভাবেই ভিন্ন খাতে নেওয়ার সুযোগ নেই বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে দাঁড়ানোর জন্য জেলা আইনজীবী সমিতির নেতাদের কৃতজ্ঞতা জানিয়ে উপাচার্য নিহতের পরিবারের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
জেলা পিপি অ্যাডভোকেট কাইমুল হক রিংকু বলেন, অপ্রতিমের পরিবারের সঙ্গে জেলা আইনজীবী সমিতির নেতারা সাক্ষাৎ করে ন্যায়বিচার পাওয়ার বিষয়ে আশ্বস্ত করেছেন। দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সঠিক অভিযোগপত্র দাখিলের জন্য পুলিশ প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
জেলা পিপি বলেন, ‘বিচারপ্রক্রিয়া যাতে কোনোভাবে ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে। আসামিদের বয়স নির্ধারণে স্কুলের নথিপত্রের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরীক্ষার বিষয়টিও আদালতের সামনে উপস্থাপন করা হবে।’
জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. শহীদুল্লাহ বলেন, অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে আইনজীবী সমাজ গভীরভাবে মর্মাহত। আসামিদের পক্ষে আইনজীবী না দাঁড়ানোর বিষয়টি কোনো আনুষ্ঠানিক লিখিত সিদ্ধান্ত নয়। ঘটনার নির্মমতার প্রতি মানবিক দায়বদ্ধতা থেকেই আইনজীবীদের মধ্যে এমন নীতিগত অবস্থান তৈরি হয়েছে।
অ্যাডভোকেট মো. শহীদুল্লাহ বলেন, আসামিদের আইনগত অধিকার নিশ্চিত করতে প্রচলিত আইন অনুযায়ী রাষ্ট্রীয়ভাবে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী নিয়োগের ব্যবস্থা থাকায় বিচারপ্রক্রিয়ায় কোনো আইনগত জটিলতা সৃষ্টি হবে না।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জেলা পিপি অ্যাডভোকেট কাইমুল হক রিংকু বলেন, এজাহার, তদন্ত ও অভিযোগপত্র দাখিল, অভিযোগ গঠন, সাক্ষ্য গ্রহণ ও জেরা, আসামির আত্মপক্ষ সমর্থন, যুক্তিতর্ক এবং সর্বশেষ রায়ের মধ্য দিয়ে বিচারপ্রক্রিয়া এগিয়ে যাবে। আসামির পক্ষে আইনজীবী না থাকলে আইন অনুযায়ী আদালত রাষ্ট্রীয়ভাবে আইনজীবী নিয়োগের ব্যবস্থা করতে পারেন।
সভা শেষে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম বলেন, অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের বিচারপ্রক্রিয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জেলা পুলিশ প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে পৃথকভাবে আলোচনা করা হবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।