হোম > সারা দেশ > চুয়াডাঙ্গা

চুয়াডাঙ্গায় ভুল চিকিৎসার অভিযোগে সিভিল সার্জনসহ তিনজনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি­

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা থানা। ছবি: সংগৃহীত

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের পর রোগীর পেটে সংক্রমণ এবং পরবর্তী সময়ে পুনরায় অস্ত্রোপচারের ঘটনায় চিকিৎসা ব্যয়ের অর্থ ফেরত না পাওয়ার অভিযোগে চুয়াডাঙ্গার সিভিল সার্জনসহ তিনজনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) আলমডাঙ্গা থানায় অভিযোগটি দায়ের করেন ভুক্তভোগী মোছা. চুমকি খাতুনের স্বামী মো. সন্টু রহমান। অভিযোগে অভিযুক্ত অপর দুজন হলেন আলমডাঙ্গার আব্দুল হামিদ মেমোরিয়াল হাসপাতাল অ্যান্ড ক্লিনিকের মালিক বাবলু ও তাঁর ছেলে আবির।

অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, গত ২০ আগস্ট আলমডাঙ্গার আনন্দধাম রোডসংলগ্ন আব্দুল হামিদ মেমোরিয়াল হাসপাতাল অ্যান্ড ক্লিনিকে চুমকি খাতুনের সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার করেন চুয়াডাঙ্গার সিভিল সার্জন হাদী জিয়া উদ্দীন আহমেদ।

অভিযোগকারীর দাবি, অস্ত্রোপচারের স্থান যথাযথভাবে পরিষ্কার না করেই সেলাই করায় কয়েক দিন পর তাঁর স্ত্রীর পেটে তীব্র ব্যথা ও সংক্রমণ দেখা দেয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে গত ৪ সেপ্টেম্বর তাঁকে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে ৬ সেপ্টেম্বর তাঁর পেটে পুনরায় অস্ত্রোপচার করা হয়। এতে চিকিৎসা বাবদ প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে বলে দাবি করেন সন্টু রহমান।

তিনি জানান, ক্লিনিকের মালিক বাবলু চিকিৎসার পুরো খরচ বহনের প্রতিশ্রুতি দিলেও পরে মাত্র ২০ হাজার টাকা দেন এবং বাকি অর্থ পরিশোধে অস্বীকৃতি জানান। দরিদ্র পরিবারের সদস্য হওয়ায় ধারদেনা করে স্ত্রীর চিকিৎসা করাতে গিয়ে তিনি আর্থিকভাবে বিপাকে পড়েছেন বলে অভিযোগ করেন।

তবে অস্ত্রোপচারে কোনো ত্রুটির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ক্লিনিক মালিক বাবলু। তাঁর দাবি, রক্ত জমাট বাঁধার কারণে এ ধরনের জটিলতা হয়ে থাকতে পারে। চিকিৎসা ব্যয় ১০ থেকে ৪৫ হাজার টাকার বেশি নয় দাবি করে তিনি বলেন, রোগীপক্ষকে ২০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। আরও ১০ হাজার টাকা দিতে চাইলেও রোগীপক্ষ তা গ্রহণ করেনি।

অভিযোগের বিষয়ে চুয়াডাঙ্গার সিভিল সার্জন হাদী জিয়া উদ্দীন আহমেদ বলেন, অস্ত্রোপচারের পর বিভিন্ন ধরনের জটিলতা দেখা দিতে পারে। ওই রোগীর পেটের ভেতরে কিছু ‘কালেকশন’ থেকে অ্যাবসেসের মতো জটিলতা তৈরি হয়েছিল। পরে পুনরায় অস্ত্রোপচার করে তাঁকে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, প্রথমদিকে রোগী তাঁর কাছে আসার পর ক্লিনিকে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। তবে রোগীপক্ষ ক্লিনিকে না থেকে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চলে যায়। এরপর তারা তাঁর সঙ্গে আর যোগাযোগ করেনি।

সিভিল সার্জন বলেন, কোনো অস্ত্রোপচারই শতভাগ জটিলতামুক্ত হবে—এমন নিশ্চয়তা দেওয়া সম্ভব নয়। তবে কোনো রোগীর অসুবিধা হলে বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করা উচিত। অভিযোগের বিষয়টি নিয়ে তাঁরা উদ্বিগ্ন বলেও জানান তিনি।

আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রাকিবুল ইসলাম জানান, ক্ষতিপূরণ দাবি করে ক্লিনিক মালিকের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে, যেখানে সিভিল সার্জনের উপস্থিতির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। বিষয়টি স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা ও তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।