চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাটে পারিবারিক কলহ ও মাদক সেবনের টাকাকে কেন্দ্র করে সৎছেলের ছুরিকাঘাতে আয়েশা বেগম (৩৫) নামের এক নারীর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গতকাল শনিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার জামবাড়িয়া ইউনিয়নের ধরমপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত আয়েশা বেগম ধরমপুর গ্রামের বাবুল হোসেনের দ্বিতীয় স্ত্রী। অভিযুক্ত তরুণ মো. আশিক বাবুল হোসেনের প্রথম পক্ষের ছেলে। ঘটনার পর থেকে সে পলাতক রয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আশিক নিয়মিত বাড়িতে থাকত না। তবে প্রায়ই ঢাকা থেকে এসে বাবা-মায়ের সঙ্গে মাদক সেবনের টাকার জন্য ঝগড়া ও পারিবারিক কলহে লিপ্ত হতো। গতকাল সন্ধ্যায় বাড়িতে বাবুলের দ্বিতীয় স্ত্রী আয়েশা ও তাঁর আড়াই বছর বয়সী শিশু সন্তান ছিল। এ সময় ঢাকায় বসবাসকারী আশিক বাড়িতে এসে অবস্থান করছিল। সন্ধ্যার দিকে বসতবাড়ি থেকে চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে আয়েশাকে রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন।
পরে স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে উদ্ধার করে পার্শ্ববর্তী শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানকার চিকিৎসক রাত সাড়ে ৮টার দিকে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ওয়াসিম ফিরোজ জানান, চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করেন। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। হত্যার সুনির্দিষ্ট কারণ উদ্ঘটনে পুলিশি তদন্ত শুরু হয়েছে।
ভোলাহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল বারিক জানান, নিহতের পেটে চারটি এবং হাত ও চোখে একটি করে ছুরিকাঘাতের চিহ্ন রয়েছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত আশিককে আটকে পুলিশের অভিযান চলছে এবং এ বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হচ্ছে।