সাড়ে ৭ কোটি টাকার প্রকল্প। নির্ধারিত সময় পার হলেও সেতু নির্মাণকাজে অগ্রগতি নেই এক ইঞ্চিও। ফলে নতুন করে বাড়ানো সময়েও কাজ শেষ হওয়া নিয়ে দেখা দিয়েছে শঙ্কা। জমি অধিগ্রহণ জটিলতা আর এলজিইডির ঢিলেমির কারণে ভুক্তভোগী স্থানীয় লোকজন। মাত্র ৬০ সেতুর কারণে তিনটি ইউনিয়নের হাজারো মানুষকে প্রতিদিন ঘুরতে হচ্ছে বাড়তি ১০ কিলোমিটার সড়ক।
স্থানীয়রা জানিয়েছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর উপজেলার শাহজাহানপুর ইউনিয়নের নরেন্দ্রপুর কাচরার খালের ওপর প্রায় ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন সেতুর কাজ এক বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। কাজ শেষ না করেই ঠিকাদারের উধাও হয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, সদর উপজেলার শাহজাহানপুর, আলাতুলী ও চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নের জনগণের যাতায়াত সহজ করতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) কাচরার খালের ওপর ৬০ মিটার দৈর্ঘ্যের সেতু নির্মাণ প্রকল্প হাতে নেয়। তবে সেতুর মূল অবকাঠামো নির্মাণের পর দীর্ঘদিন ধরে থমকে আছে বাকি কাজ।
এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের কাজ শুরু হয় ২০২৩ সালে ৭ সেপ্টেম্বর। আর কাজ শেষের মেয়াদ ছিল ২০২৫ সালের ৬ মার্চ। কাজের ব্যয় ধরা হয় ৬ কোটি ৯০ লাখ ৯২ হাজার ৩৪৩ টাকা। পরে সময় বাড়িয়ে নতুন করে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদ নির্ধারণ করা হলেও কাজ শুরুর তেমন কোনো অগ্রগতি নেই।
স্থানীয় যুবক আবু সালেহ বলেন, সামান্য বৃষ্টি আর জলাবদ্ধতার সময় সেতুর নিচ দিয়েও চলাচল করা যায় না। ফলে প্রতিনিয়ত ভোগান্তি বাড়ছে। এলজিইডি ও স্থানীয় প্রশাসনকে বারবার অবহিত করেও কাজ শুরুর কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা রহমতুল্লাহ বলেন, ‘এক বছর ধরে সেতুটা দাঁড়িয়ে আছে, কিন্তু একটুও কাজে লাগছে না। স্কুল-কলেজে যাওয়া থেকে শুরু করে রোগী নিয়ে হাসপাতালে যেতে হলেও আমাদের ঘুরতে হয় অনেক দূরের পথ।’ পল্লিচিকিৎসক আসরাফুল ইসলাম বলেন, ৩০০ মিটার সড়কের কারণে এখন অতিরিক্ত ১০ কিলোমিটার সড়ক পাড়ি দিতে হচ্ছে।
জানতে চাইলে জমি অধিগ্রহণের টাকা না পাওয়ায় স্থানীয়দের বাধার মুখে কাজ বন্ধ রাখতে হয়েছে দাবি ঠিকাদার মো. সেলিমের। তিনি বলেন, ‘জমি অধিগ্রহণ-সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান না হওয়ায় কাজ এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি। বিষয়টি সমাধান হলেই আমরা কাজ শুরু করব।’
এ বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মো. আজহারুল ইসলাম বলেন, ‘কিছু জটিলতা থাকায় কাজ বন্ধ ছিল। খুব শিগগির পুনরায় কাজ শুরু করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করার চেষ্টা করা হবে।’