চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার চককীর্তি ইউনিয়নের লহলামারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির খাবার খেয়ে ১২ শিক্ষার্থী অসুস্থ হওয়ার ঘটনায় ছয় সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সরবরাহ করা খাবারের গুণগত মান যাচাই এবং শিক্ষার্থীদের অসুস্থ হওয়ার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে এ কমিটি গঠন করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম।
তিনি জানান, বুধবার লহলামারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অসুস্থ শিক্ষার্থীদের হাসপাতালে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসা শেষে তারা সবাই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে জেলা প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে। সরবরাহ করা খাবারের গুণগত মান পরীক্ষা, শিক্ষার্থীদের অসুস্থ হওয়ার কারণ অনুসন্ধান এবং এর জন্য দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে চিহ্নিত করতে ছয় সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গীর স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে বলা হয়েছে, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে (শিক্ষা ও আইসিটি) আহ্বায়ক করে কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সদস্য করা হয়েছে শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা এবং জেলা স্যানিটারি পরিদর্শককে।
অফিস আদেশে তদন্ত কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। কমিটিকে সরবরাহ করা খাবারের গুণগত মান যাচাই, শিক্ষার্থীদের অসুস্থ হওয়ার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে চিহ্নিত করতে বলা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, এর আগে গাক এনজিওর সরবরাহ করা খাবার খেয়ে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শতাধিক শিক্ষার্থী কয়েক দফায় অসুস্থ হওয়ার ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় পৃথকভাবে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কয়েকটি ঘটনায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে জরিমানাও করা হয়। খাবারের মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর কিছু সময়ের জন্য প্রতিষ্ঠানটির খাবার সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছিল।
তবে পরে আবার একই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির খাবার সরবরাহ শুরু হওয়ায় নতুন করে প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা।
তাঁদের অভিযোগ, বারবার খাবার খেয়ে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হওয়ার পরও একই প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভর করে খাবার সরবরাহ অব্যাহত রাখায় খাবারের মান ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।