হোম > সারা দেশ > চাঁপাইনবাবগঞ্জ

স্থাপনা উচ্ছেদ নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ১০, ইউএনওর গাড়িতে ইটপাটকেল নিক্ষেপ

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রতীকী ছবি

চাঁপাইনবাবগঞ্জের রহনপুর পৌর এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও রেলস্টেশনসংলগ্ন অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের সময় গোমস্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) গাড়িতে ইটপাটকেল নিক্ষেপের অভিযোগও উঠেছে।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে রহনপুর পৌর এলাকার রেলস্টেশনসংলগ্ন শান্তিপাড়া এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রহনপুর রেলস্টেশনের অদূরে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে রহনপুর আম আড়তদার সমিতির সদস্যদের সঙ্গে এবি স্কুল নিচপাড়ার কয়েকজন বাসিন্দার বিরোধ সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে দিনভর এলাকায় উত্তেজনা চলছিল। পরে রাতে দুই পক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।

সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়ে যান। এ সময় কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাঙচুরের অভিযোগও পাওয়া গেছে।

রহনপুর আম আড়তদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক, মাদক ও অসামাজিক কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ কমিটির আহ্বায়ক নাসির উদ্দিন বলেন, ইউএনওর নির্দেশে ইউসুফ ও রবুকে তাঁদের দোকান সরিয়ে নিতে বলা হয়েছিল। তাঁরা দোকান না সরিয়ে তাঁদের লোকজনের ওপর লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা করেন। এতে তাঁদের পাঁচ থেকে সাতজন আহত হয়েছেন এবং চার-পাঁচটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়েছে।

নাসির উদ্দিন আরও বলেন, পরে ইউএনও ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) গাড়ি নিয়ে ঘটনাস্থলে এলে তাঁদের গাড়িতেও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়।

তবে ইউএনও জিল্লুর রহমান বলেন, রহনপুর রেলস্টেশনের শান্তিপাড়া এলাকায় আম ব্যবসায়ী ও মাদক ব্যবসায়ীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। মঙ্গলবার দিনভর সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি ছিল। পরিস্থিতি দেখতে ঘটনাস্থলে গেলে মাদক কারবারিরা আম ব্যবসায়ীদের ওপর চড়াও হন এবং একজন আম ব্যবসায়ীকে আক্রমণ করেন। তিনি বলেন, আহত ওই আম ব্যবসায়ীকে হাসপাতালে নেওয়ার সময় কয়েকজন বিভিন্ন দিক থেকে রেলের পাথর নিক্ষেপ করেন। এর একটি পাথর তাঁদের গাড়িতে লাগলে গাড়ির গ্লাস সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কারা পাথর নিক্ষেপ করেছে, তা খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইউএনও আরও বলেন, তাঁরা ঘটনাস্থল থেকে চলে আসার পরও আম ব্যবসায়ীদের কয়েকজন হামলার শিকার হয়েছেন বলে খবর পেয়েছেন।

এদিকে জেলা যুবদলের সদস্য ও সাবেক ছাত্রনেতা আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে হামলার নেপথ্যে থাকা এবং মাদক কারবারের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। তবে তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

আব্দুল্লাহ বলেন, তিনি স্টেশনের শান্তিপাড়া এলাকায় কোনো অসামাজিক কার্যকলাপ কিংবা মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত নন। যাঁরা এসব অভিযোগ করছেন, তাঁরা মিথ্যা বলছেন। তবে তাঁর বিরুদ্ধে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) রয়েছে বলে তিনি স্বীকার করেন।

গোমস্তাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাজমুল হক বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে ঝামেলা চলছে—এমন খবর পেয়ে রাতে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।