হোম > সারা দেশ > চাঁপাইনবাবগঞ্জ

প্রাথমিক বিদ্যালয়: ৭০৭টি স্কুলে ৬০৫ শিক্ষকের পদ শূন্য, পিছিয়ে শিক্ষার্থীরা

আব্দুল বাশির, চাঁপাইনবাবগঞ্জ

ফাইল ছবি

চাঁপাইনবাবগঞ্জে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষক সংকট প্রকট হয়ে উঠেছে। জেলার ৭০৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকের পদ রয়েছে ৪ হাজার ৭৫৩টি। কর্মরত আছেন ৪ হাজার ১৪৮ জন। পদের বিপরীতে ৬০৫ শিক্ষক কম। এ ছাড়া গত জুলাই মাসে ২২ হাজার ৩৯৪ শিক্ষার্থীর মৌলিক সাক্ষরতা ও গাণিতিক দক্ষতার (এফএলএন) জরিপের ফলও স্বস্তিদায়ক নয়।

প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, শিক্ষক সংকটের কারণে অনেক বিদ্যালয়ে কর্মরত শিক্ষকদের ওপর বাড়তি চাপ পড়ছে। কোনো শিক্ষক ছুটিতে থাকলে অন্যদের একাধিক শ্রেণির পাঠদান সামলাতে হচ্ছে। ফলে শিক্ষার্থীদের আলাদাভাবে নজর দেওয়া এবং দুর্বলদের বাড়তি সহায়তা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।

পশ্চিম আনারপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রুহুল আমীন বলেন, ১৯৪ শিক্ষার্থীর জন্য ছয়টি শিক্ষক পদের বিপরীতে পাঁচজন কর্মরত আছেন। একটি সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য। তিনি বলেন, ‘আমাদের একজন সহকারী শিক্ষককে প্রতিদিন সাতটি করে ক্লাস নিতে হয়। প্রধান শিক্ষকও দুটি ক্লাস নেন।’ রুহুল আমীন বলেন, ‘এতে শিক্ষার্থীদের পাঠদানের সময় উপকরণ তেমন প্রদর্শন করা যায় না। শিক্ষার্থীদের শিক্ষণ ঘাটতি থেকেই যাচ্ছে।’

দেওপুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাজমী খাতুন বলেন, ২৩৮ শিক্ষার্থীর জন্য সাতটি পদের বিপরীতে পাঁচ শিক্ষক কর্মরত আছেন। একজন শিক্ষক বরখাস্ত এবং প্রধান শিক্ষকের একটি পদও শূন্য রয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমাকে প্রশাসনিক বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত থাকতে হয়। ফলে অন্য চার শিক্ষককে প্রচুর চাপের মধ্যে পাঠদান কার্য চালাতে হয়। শিক্ষার্থীদের শিক্ষণ ঘাটতি থাকছে।’

অপর দিকে এফএলএনের জরিপ অনুযায়ী, প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ এখনো মৌলিক দক্ষতা অর্জন করতে পারেনি। তৃতীয় শ্রেণির প্রায় ৩০ শতাংশ শিক্ষার্থী সাবলীলভাবে বাংলা পড়তে না পারায় তাদের পরবর্তী শ্রেণির পাঠ বুঝতে সমস্যার আশঙ্কা রয়েছে। একইভাবে চতুর্থ শ্রেণির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ শিক্ষার্থী যোগ, বিয়োগ, গুণ ও ভাগের মৌলিক দক্ষতায় কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেনি।

পঞ্চম শ্রেণিতেও ইংরেজি পড়ার ক্ষেত্রে ঘাটতি রয়েছে। ৬২ দশমিক ৪০ শতাংশ শিক্ষার্থী সাবলীলভাবে ইংরেজি পড়তে পারলেও ৩৭ দশমিক ৬০ শতাংশ এখনো পারেনি। তবে এই ফলাফলের জন্য শুধু শিক্ষক সংকটকে একমাত্র কারণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। শিক্ষক বণ্টনসহ বিভিন্ন বিষয় শিক্ষার ফলাফলে ভূমিকা রাখতে পারে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম শিক্ষক সংকট প্রসঙ্গে বলেন, ‘শিক্ষক সংকটের বিষয়টি অধিদপ্তর দেখভাল করছে।’