সরকারি চাকরিতে কর্মরত অবস্থায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাংগঠনিক পদে থাকার অভিযোগ উঠেছে ভোলার চরফ্যাশন উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা সফিউল্ল্যাহ জগলুর বিরুদ্ধে। তাঁকে দলটির চরফ্যাশন উপজেলা আহ্বায়ক কমিটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছে বলে জানা গেছে। বিষয়টি জানার পর সরকারি চাকরিতে থেকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়ার বিধিনিষেধ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
প্রাপ্ত কমিটি অনুমোদনের চিঠি অনুযায়ী, আগামী ছয় মাসের জন্য এনসিপির চরফ্যাশন উপজেলা আহ্বায়ক কমিটির আংশিক অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সাত সদস্যের এ কমিটিতে বিভিন্ন পদে দায়িত্ব বণ্টন করা হয়। এতে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে সফিউল্ল্যাহ জগলুর নাম রয়েছে।
সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯-এর বিধি ২৫(১) অনুযায়ী, কোনো সরকারি কর্মচারী কোনো রাজনৈতিক দল বা এর অঙ্গসংগঠনের সদস্য হতে পারবেন না। এমনকি দেশ বা বিদেশে কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে অংশ নিতে কিংবা সহায়তা করতে পারবেন না।
তবে সরকারি চাকরিতে থাকা অবস্থায় সফিউল্ল্যাহ জগলুর নাম কীভাবে দলীয় কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত হলো, তা নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
এ বিষয়ে এনসিপির ভোলা জেলা আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মো. জিয়াউর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি আমি শুনেছি। আমাদের কাছে নামের তালিকা এসেছে। তবে যাচাই-বাছাইয়ে আমাদের ভুল ছিল। সরকারি চাকরিজীবীদের রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার সুযোগ নেই।’
এনসিপির চরফ্যাশন উপজেলা কমিটির আহ্বায়ক অহিদ ফয়সাল বলেন, ‘তিনি সরকারি চাকরি করেন। আমাদের রাজনীতিতে তাঁর মৌন সম্মতি রয়েছে। তবে তাঁর নাম ও ফোন নম্বর ভুলবশত কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।’
সফিউল্ল্যাহ জগলুর মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
চরফ্যাশন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. রাজন আলী বলেন, ‘বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাকে অবহিত করেছি।’
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমাকে সরকারি ম্যানুয়াল দেখতে হবে এবং তাঁর অবস্থানও যাচাই করতে হবে। আমি বিষয়টি দেখছি।’