হোম > সারা দেশ > ভোলা

স্বামীর অধিকার ও সন্তানের পিতৃপরিচয়ের দাবিতে ভোলায় মহাসড়ক অবরোধ-বিক্ষোভ

বোরহানউদ্দিন (ভোলা) প্রতিনিধি 

পুলিশ গিয়ে আসামিদের গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিলে বিক্ষোভকারীরা অবরোধ প্রত্যাহার করে। ছবি: আজকের পত্রিকা

ভোলায় স্বামীর অধিকার ও সন্তানের বাবার পরিচয়ের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ, মানববন্ধন এবং বিক্ষোভ মিছিল করেছেন এলাকাবাসী। আজ রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত উপজেলার ভোলা-চরফ্যাশন আঞ্চলিক মহাসড়কের কাচিয়া ইউনিয়নের বৈদ্যরপোল এলাকায় এই কর্মসূচি পালিত হয়।

এ সময় সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। যাত্রীবাহী বাসসহ অন্যান্য যানবাহন আটকা পড়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েন পথচারীরা। পরে পুলিশ দ্রুত আসামি গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিলে এলাকাবাসী অবরোধ প্রত্যাহার করে নেন।

মানববন্ধনে অংশ নিয়ে ভুক্তভোগী কিশোরী বলেন, শাহরিয়ার হোসেন মহিন নামে এক যুবকের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল। প্রায় দেড় বছর আগে স্কুল থেকে ফেরার পথে তাকে বাড়িতে নিয়ে প্রথম ধর্ষণ করা হয়। পরে সেই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে এবং বিয়ের আশ্বাস দিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করে মহিন। এর পর সে বিয়ে না করে আত্মগোপনে রয়েছে।

কিশোরী বলেন, তার একটি পাঁচ মাসের সন্তান রয়েছে। সন্তানের পিতৃপরিচয় নিশ্চিত করতে এবং স্বামীর অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে তিনি এলাকাবাসীর সহযোগিতা নিয়েছেন।

কিশোরীর ভাই জানান, বারবার আশ্বাস দিয়েও বোনকে মেনে নেয়নি মহিনের পরিবার। উপায় না পেয়ে গত বছরের ডিসেম্বরে তারা ভোলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেছেন। মামলায় মহিন ও তার মা আফরোজা বেগমকে আসামি করা হয়েছে। কিন্তু আসামিরা সরকারি চাকরিজীবী ও প্রভাবশালী হওয়ায় মামলা তুলে নেওয়ার জন্য নানা হুমকি দিচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘গত ২৩ সেপ্টেম্বর মামলা তুলে নিতে আমাদের হুমকি দেওয়া হয়েছে। পরে নিরাপত্তা চেয়ে বোরহানউদ্দিন থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। আমরা আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানাই।’

মানববন্ধনে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘একটি ১৬ বছরের মেয়ের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। শিশুটি তার বাবার পরিচয় পাচ্ছে না। কোনো প্রতিকার না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে সড়ক অবরোধ করে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করছি। বিচার না পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।’

বোরহানউদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফ আলী বলেন, ‘ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। মামলা ও অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হবে।’

ভোলার পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ কাউসার বলেন, ‘অপরাধী যেই হোক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’