হোম > সারা দেশ > ভোলা

চাঁদা না পেয়ে নিজ দলের ওএমএস ডিলারের টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ যুবদল নেতার বিরুদ্ধে

ভোলা প্রতিনিধি

তৈয়বুর রহমান মাতাব্বর। ছবি: সংগৃহীত

ভোলার বোরহানউদ্দিনে নিজ দলের ওএমএস ডিলারের কাছে তিন লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে ৫৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক যুবদল নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ডিলার মো. আব্দুর রহিম ওরফে হাসান ফরাজী বোরহানউদ্দিন থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন।

অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম তৈয়বুর রহমান মাতাব্বর (৪৫)। তিনি উপজেলার পক্ষিয়া ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক।

অন্যদিকে হাসান ফরাজী একই ইউনিয়ন যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং ওই ইউনিয়নের ১ থেকে ৬ নম্বর ওয়ার্ডের হতদরিদ্রদের জন্য ১৫ টাকা কেজি মূল্যের চাল (ওএমএস) বিতরণের ডিলার।

থানায় দেওয়া অভিযোগে ডিলার হাসান ফরাজী বলেন, ডিলারশিপ পাওয়ার পর থেকেই যুবদল নেতা তৈয়বুর রহমান তাঁর কাছে তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা একাধিকবার সতর্ক করলেও তিনি শোনেননি। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বেলা পৌনে ৩টার দিকে ইউনিয়ন পরিষদের নিচতলার গুদামে চাল বিতরণকালে তৈয়বুর রহমান ফের চাঁদা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ক্যাশবক্স থেকে নগদ ৫৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেন। পরে ওই দিন রাতেই বোরহানউদ্দিন থানায় অভিযোগ করেন হাসান ফরাজী।

তাঁদের দুজনের রাজনৈতিক পরিচয় নিশ্চিত করে বোরহানউদ্দিন উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক শিহাব উদ্দিন হাওলাদার বলেন, ‘চাঁদাবাজি ও টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার বিষয়টি আমি শুনেছি। এর আগেও দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে তৈয়বুর রহমানকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল।’

তবে চাঁদা দাবি ও টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন যুবদল নেতা তৈয়বুর রহমান মাতাব্বর। তিনি দাবি করেন, ডিলারশিপের জন্য তাঁরা দুজনেই আবেদন করেছিলেন। দলীয় সিদ্ধান্তে ডিলারশিপ একজনের নামে হলেও লাভ দুজনের ভাগ করার কথা ছিল। সে অনুযায়ী তাঁরা দুজনেই টাকা বিনিয়োগ করেছেন। গত তিন মাস তিনি চালানের টাকা দিলেও লভ্যাংশ নেননি। গতকাল চাল বিক্রি শেষে হিসাব অনুযায়ী ৫০ হাজার টাকা করে দুজনে ভাগ করে নেন এবং বাকি টাকা হাসান ফরাজীর বাবাকে দেন।

অভিযোগের বিষয়ে বোরহানউদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশ্রাব আলী জানান, ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। আজ সকালে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।