বরিশালের গৌরনদী উপজেলার রিজিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এক ছাত্রকে মারধর, কান ধরে ওঠবস করানো এবং শিক্ষকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগে লিপন শরীফ (৪৪) নামের এক অভিভাবককে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
আজ বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এ দণ্ড দেন গৌরনদী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মেহেদী হাসান।
দণ্ডপ্রাপ্ত লিপন শরীফ উপজেলার নাঠৈ গ্রামের বাদশা শরীফের ছেলে। তাঁর দুই সন্তানও ওই বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শাহিন জানান, গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে লিপন শরীফ স্কুলে প্রবেশ করে দশম শ্রেণির ছাত্র সাজ্জাদ ঢালীকে মারধর করেন এবং মাঠের মধ্যে নিয়ে কান ধরে ওঠবস করান। এ সময় শিক্ষকেরা প্রতিবাদ করলে তাঁদের প্রতিও চড়াও হন এবং গালিগালাজ করেন। এতে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে আজ বুধবার দুপুরে লিপন পুনরায় স্কুলে আসলে উত্তেজিত শিক্ষার্থীরা তাঁকে ঘিরে ফেলে। পরিস্থিতি শান্ত করতে তিনি তাঁকে নিজের কক্ষে বসিয়ে রাখেন।
প্রধান শিক্ষক আরও বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের অভিযোগ পেয়ে পুরো বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) জানানো হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক সহকারী কমিশনার (ভূমি) মেহেদী হাসান উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীদের অভিযোগের ভিত্তিতে তিন মাসের কারাদণ্ড দেন।’
তবে সাজাপ্রাপ্ত লিপনের পরিবার এ ঘটনাকে অস্বাভাবিক ও পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেছে। লিপনের বড় ভাই কামরুল আলম এজাজ বলেন, ‘ঘটনার তিন ঘণ্টা পর আমরা জানতে পেরেছি, তাঁকে তিন মাসের সাজা দেওয়া হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে স্কুলের আশপাশের বাগানে কিছু ছাত্র অহেতুক ঘোরাঘুরি করছিল। পড়াশোনায় বিঘ্ন ঘটছে দেখে লিপন অভিভাবক হিসেবে তাদের ধমক দিয়েছিলেন। কিন্তু কিছু শিক্ষক উল্টো শিক্ষার্থীদের উসকে দিয়েছেন।’
ঘটনার সময় উপস্থিত লিপনের বন্ধু সৈয়দ রঞ্জু বলেন, তিনি গিয়ে দেখেন লিপনকে প্রধান শিক্ষকের কক্ষে বসিয়ে রাখা হয়েছে। এরপর হঠাৎ করেই কোমলমতি শিক্ষার্থীদের কথায় সাজা দেওয়া হলো।
চাঁদশী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান তাইফুর রহমান কচি বলেন, ‘লিপন ছোটখাটো ব্যবসা করেন। ছাত্রকে মারধরের ঘটনায় একজন অভিভাবককে এভাবে ৩ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া অস্বাভাবিক মনে হচ্ছে।’
গৌরনদী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মেহেদী হাসানকে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও তিনি তা ধরেননি।
তবে গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইব্রাহিম বলেন, ‘ভ্রাম্যমাণ আদালতের এই দণ্ড অস্বাভাবিক মনে করলে দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি বা তাঁর পরিবার আপিল করতে পারেন।’