বরিশাল নগরের ব্যস্ততম চৌমাথা এলাকায় মহাসড়ক দখল করে হঠাৎ বসানো হয়েছে অন্তত ২৫টি ভ্রাম্যমাণ ফলের দোকান। প্রতিটি দোকানে সিটি করপোরেশনের লোগো ব্যবহার করা হলেও কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এসব স্টলের কোনো বৈধ অনুমোদন নেই। অবৈধভাবে সড়ক দখলের কারণে ওই এলাকায় তীব্র যানজট ও যান চলাচলে ব্যাঘাত ঘটছে।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে সরেজমিনে চৌমাথা এলাকা ঘুরে দেখা যায়, চৌমাথা সিটি মার্কেটের পশ্চিম ও উত্তর অংশে ২০ থেকে ২৫টিরও বেশি বক্স স্টল বসানো হয়েছে। সড়ক ও ড্রেনের অংশ দখল করে রাতারাতি গড়ে তোলা এসব দোকানের সামনে বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) লোগো সাঁটানো রয়েছে।
স্থায়ী দোকানদার ও ব্যবসায়ীদের মাঝে এ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। চৌমাথা সিটি মার্কেটের একাধিক স্টল মালিক জানান, তাঁরা সিটি করপোরেশনকে ২০ থেকে ৩০ লাখ টাকা দিয়ে বৈধভাবে স্টল বরাদ্দ নিয়েছেন। কিন্তু হঠাৎ করে তাঁদের দোকানের ঠিক সামনেই এসব অবৈধ ভ্রাম্যমাণ দোকান বসানোর ফলে তাঁদের ব্যবসা একপ্রকার বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
সড়ক দখলের বিষয়ে নেতৃত্ব দেওয়া ফল বিক্রেতা মো. জলিল হাওলাদার জানান, সিটি করপোরেশনের সাবেক প্রশাসক রায়হান কাওসারের মেয়াদের সময় এসব ভ্রাম্যমাণ বক্স দোকান তৈরি করা হয়েছিল। তবে তখন তাঁদের বসতে দেওয়া হয়নি। সে কারণে তাঁরা আজ বৃহস্পতিবার ভোরে স্বউদ্যোগে দোকানগুলো এনে মার্কেটের সামনে বসিয়েছেন। করপোরেশন এখনো অনুমোদন না দিলেও তাঁরা আজ থেকেই কেনাবেচা শুরু করবেন বলে জানান এবং বর্তমান কর্তৃপক্ষের ভূমিকা দেখার কথা বলেন।
তবে সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ এমন দাবি সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করেছে। বরিশাল সিটি করপোরেশনের হাটবাজার শাখার তত্ত্বাবধায়ক রেজাউল করিম জানান, এসব দোকানের কোনো অনুমোদন করপোরেশন থেকে দেওয়া হয়নি।
এদিকে বিসিসির উচ্ছেদ শাখার প্রধান লকিতুল্লাহ সিকদার বলেন, ‘মহাসড়ক ও ফুটপাত দখল করে অবৈধ দোকান বসানোর খবর পেয়েই আমরা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ অভিযান পরিচালনাকারী টিম পাঠাচ্ছি। দ্রুতই এসব অবৈধ স্টল উচ্ছেদ করা হবে।’