বরিশালের মুলাদী উপজেলার একমাত্র অডিটরিয়াম ‘শহীদ আলতাফ মাহমুদ’ থেকে আটটি সিলিং ফ্যান চুরি হয়েছে। গতকাল বুধবার দিবাগত রাতের কোনো একসময় এ ঘটনা ঘটে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে অডিটরিয়াম খোলার পর বিষয়টি ধরা পড়ে। এ দিন সেখানে উপজেলা ও পৌর জামায়াতে ইসলামীর কর্মী সম্মেলন ছিল। ফ্যান না থাকায় প্রচণ্ড গরমে ভোগান্তিতে পড়েন সম্মেলনের আয়োজক ও অংশগ্রহণকারীরা।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, প্রায় চার মাস আগে অডিটরিয়ামটিতে নতুন করে ফ্যান লাগানো হয়েছিল। সেখানে মোট ২৪টি সিলিং ফ্যান ছিল। এর মধ্যে সামনের দিকের আটটি ফ্যান চুরি হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, দুর্বৃত্তরা ভেন্টিলেটর দিয়ে ভেতরে ঢুকে ফ্যানগুলো খুলে নিয়ে যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা ও পৌর জামায়াতে ইসলামীর কর্মী সম্মেলনের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অনুমতি নিয়েছিলেন দলটির নেতা-কর্মীরা। আজ সকালে অডিটরিয়াম খুলে তাঁরা সামনের দিকের ৮টি ফ্যান দেখতে পাননি।
উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মাওলানা মো. মোর্শেদ আলম জানান, অডিটরিয়ামের সামনের দিকে এক পাশে ছয়টি এবং অন্য পাশে দুটি ফ্যান ছিল না। এতে গরমে বিপাকে পড়েন নেতা-কর্মীরা। পরে ফ্যানের ব্যবস্থা করে অনুষ্ঠান সম্পন্ন করা হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. গোলাম সরওয়ার বলেন, উপজেলার একমাত্র অডিটরিয়ামের ফ্যানগুলো নষ্ট হয়ে যাওয়ায় কয়েক মাস আগে নতুন ফ্যান লাগানো হয়েছিল। চুরির বিষয়টি থানা-পুলিশকে জানানো হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, অডিটরিয়ামের সামনে নিরাপত্তার দায়িত্বে কেউ নেই। এর চাবি ওই কার্যালয়ের নাজির আবুয়াল হোসেনের কাছে সংরক্ষিত থাকে। কোনো অনুষ্ঠান থাকলে অডিটরিয়াম খুলে দেওয়া হয়।
মুলাদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার মো. সোহেল রানা বলেন, উপজেলা পরিষদের সামনে ও আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। চোর শনাক্ত ও ফ্যান উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।
অডিটরিয়াম থেকে ফ্যান চুরির পাশাপাশি একই রাতে মুলাদী সিনেমা হলের সামনে বাঁধের ওপর তিনটি দোকানেও চুরির ঘটনা ঘটেছে। ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম জানান, গতকাল বুধবার রাতের কোনো এক সময় দুর্বৃত্তরা তাঁর এবং পাশের শাকিল হোসেন ও দেলোয়ার হোসেনের দোকানের টিন কেটে ভেতরে ঢোকে। তারা সিগারেটসহ প্রায় দেড় লাখ টাকার মালামাল এবং নগদ এক লাখ টাকা নিয়ে যায়।
পরপর এসব চুরির ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাঁরা রাতের নিরাপত্তা জোরদার এবং চুরির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।