বরিশালের হিজলায় তাহের ব্যাপারী (৩৫) নামের এক যুবলীগ কর্মীকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। গতকাল মঙ্গলবার রাতে উপজেলার হিজলা গৌরবদী ইউনিয়নের পিটকিরাতলা এলাকায় ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক তানভির তালুকদারের নেতৃত্বে এই ঘটনা ঘটে।
পরে তানভির তাঁর ফেসবুকে একটি ৫৯ সেকেন্ডের ভিডিও বার্তা প্রচার করে দাবি করেন, ‘প্রশাসনের পরামর্শেই’ তাহেরকে আটকে রাখা হয়েছে।
নির্যাতনের শিকার তাহের ব্যাপারী স্থানীয় যুবলীগ কর্মী এবং গৌরবদী ইউনিয়ন কৃষক লীগের প্রয়াত সভাপতি বেলায়েত হোসেন ব্যাপারীর ছেলে।
তাহের ব্যাপারী বলেন, ‘মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ৭-৮টি মোটরসাইকেলে লোকজন নিয়ে আমার গ্রামের বাড়ি দক্ষিণ চর দেবুয়ারে আসে তানভির তালুকদার। তারা আমাকে জোর করে তুলে নিয়ে পিটকিরাতলা এলাকার বিএনপি নেতার মার্কেটের পেছনের একটি কক্ষে আটকে রাখে। সেখানে তানভির, শাকিল ও শাহিন তালুকদার এক ঘণ্টা ধরে আমাকে মারধর করে।’
তাহের আরও জানান, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পারিবারিক ভোটের সমীকরণ বিবেচনায় স্থানীয় তিন ইউপি সদস্য প্রার্থী—জসিম ব্যাপারী, হুমায়ুন তালুকদার ও ধলু গাজী গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করেন।
ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি ধলু গাজী বলেন, ‘তানভির দাবি করেছিল সে তাহেরের কাছে টাকা পায়। আমরা গিয়ে বলেছি, হিসাব করে টাকা বুঝিয়ে দেওয়া হবে। তবে আমরা যখন পৌঁছাই, তখন সেখানে কিছু মানুষের মধ্যে তাহের বসা ছিল।’
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো ভিডিওতে বিএনপি নেতা তানভির তালুকদারকে বলতে শোনা যায়, ‘সন্ত্রাসী তাহের ফেসবুকে আওয়ামী লীগকে সংগঠিত করার চেষ্টা করছে। আমি দেখতে চাই, তাকে ছাড়ানোর জন্য কারা কারা সুপারিশ করে এবং কারা কারা থানায় গিয়ে বসে থাকে। জনগণ তাকে আটকে রেখেছে। থানা-পুলিশের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, কালকে আমাকে বলা হয়েছে তাকে (তাহের) ধরতে। এ জন্য ধরে রাখছি।’
তবে নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করে তানভির বলেন, ‘তাহের একজন সন্ত্রাসী। সে আওয়ামী লীগকে সংগঠিত করতে ফেসবুকে নানা স্ট্যাটাস দেয়। থানা-পুলিশ বলেছিল ওকে আটকে ফোন করতে।’ তিনি বলেন, ‘আমি তাকে মার্কেটে নিয়ে আসার পর সাধারণ জনগণ তাকে আটকে রাখে, কোনো মারধরের ঘটনা ঘটেনি।’
এ ব্যাপারে হিজলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলায়মান হোসেন বলেন, ‘বিএনপি নেতা তানভিরের মাথায় সমস্যা। কখন কী বলে ঠিক নাই।’ ওসি বলেন, ‘তানভির তো পাবলিক, পুলিশ অফিসার নন। সে কেন একজনকে ধরে আনবেন। পুলিশ কাউকে ধরে আনতে বলেনি।’
ওসি বলেন, তাহের ব্যাপারী নামে কাউকে আটকে রেখে মারধরের বিষয়ে এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি।