পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে কুদবারচর আদর্শ বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি মনোনয়নকে ঘিরে স্থানীয় বিএনপির শীর্ষ নেতাদের পাল্টাপাল্টি সুপারিশের ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। এর জেরে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ ওঠে বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক মো. সাইফুর রহমানের বিরুদ্ধে। অভিযোগের পর তদন্ত ছাড়াই তাঁকে স্ট্যান্ড রিলিজ করে সরকারি বরিশাল কলেজে বদলি করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, বিদ্যালয়টির সভাপতি মনোনয়ন নিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য (এমপি) আলতাফ হোসেন চৌধুরী এবং জেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক স্নেহাংশু সরকার কুট্টির পক্ষ থেকে পাল্টাপাল্টি সুপারিশ করা হয়েছিল।
শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, পটুয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য আলতাফ হোসেন চৌধুরী মির্জাগঞ্জের কুদবারচর আদর্শ বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে আব্দুর রশিদ মোল্লার নাম সুপারিশ করেন। অন্যদিকে জেলা বিএনপির সভাপতি স্নেহাংশু সরকার কুট্টি ও সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান বিদ্যালয়ের দাতা সদস্য সিদ্দিকুর রহমান রাজ্জাককে সভাপতি করার জন্য সুপারিশ করেন। পরে শিক্ষা বোর্ড সিদ্দিকুর রহমান রাজ্জাককে সভাপতি করে কমিটি অনুমোদন দেয়।
এরপর স্থানীয় এমপির অনুসারী মজিদবাড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হোসেন মৃধা বিদ্যালয় পরিদর্শক সাইফুর রহমানের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তুলে শিক্ষামন্ত্রীর কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগপত্রে আলতাফ হোসেন চৌধুরী তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ২০ সেপ্টেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মনজুর আলম স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে সাইফুর রহমানকে সরকারি বরিশাল কলেজে সহযোগী অধ্যাপক পদে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়।
অভিযোগকারী মোজাম্মেল হোসেন বলেন, প্রধান শিক্ষক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের দেওয়া তিনজনের তালিকায় আব্দুর রশিদ মোল্লার নাম প্রথমে ছিল। তাঁর দাবি, স্থানীয় এমপিও রশিদ মোল্লার পক্ষে বোর্ডে সুপারিশ করেছিলেন। কিন্তু বিদ্যালয় পরিদর্শক অর্থের বিনিময়ে সিদ্দিকুর রহমানকে সভাপতি করেছেন।
অভিযোগ অস্বীকার করে বদলি হওয়া বিদ্যালয় পরিদর্শক সাইফুর রহমান বলেন, জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক দাতা সদস্য সিদ্দিকুর রহমান রাজ্জাককে সভাপতি করার সুপারিশ করেছিলেন। স্থানীয় এমপি আলতাফ হোসেন একজনের নাম সাদা কাগজে সুপারিশ করেছিলেন, সেটি ডিও লেটার ছিল না। বোর্ডের পরিপত্র অনুযায়ী দাতা সদস্যকে সভাপতি করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে করা অভিযোগের কোনো তদন্ত না করে তাঁকে বদলি করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শাহজাদা বলেন, তিনজনের তালিকায় সিদ্দিকুর রহমানের নাম দ্বিতীয় ছিল। শিক্ষা বোর্ড তালিকায় থাকা যেকোনো একজনকে সভাপতি করার এখতিয়ার রাখে। তবে কারও পক্ষে ডিও লেটার ছিল কি না, তা তাঁর জানা নেই।
পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সভাপতি স্নেহাংশু সরকার কুট্টি বলেন, ‘বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানেরা যোগ্য ব্যক্তিকে সভাপতি করার জন্য তাঁর কাছে আসেন। তাঁদের পছন্দ অনুযায়ী তিনি বোর্ডে সুপারিশ করেন। কুদবারচর বিদ্যালয়ের ক্ষেত্রেও তিনি সুপারিশ করেছিলেন।’
সংসদ সদস্য আলতাফ হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘বিদ্যালয়ের কমিটি গঠনে অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে কয়েকজন তাঁর কাছে এসেছিলেন। তিনি অভিযোগপত্রে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছেন।’ আব্দুর রশিদ মোল্লাকে সভাপতি করার সুপারিশ করেছিলেন কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তাঁর কাছে অনেক লোক সুপারিশের জন্য আসেন; রশিদ মোল্লার বিষয়টি তাঁর মনে নেই।’
বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু তাহের মোহাম্মদ রাশেদুল বলেন, ‘মির্জাগঞ্জের একটি বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি অনুমোদনে তৎকালীন বিদ্যালয় পরিদর্শকের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। সংসদ সদস্য আলতাফ হোসেন চৌধুরীর সুপারিশে ওই অভিযোগ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। অভিযোগের ভিত্তিতেই সাইফুর রহমানকে বরিশাল কলেজে বদলি করা হয়েছে।’