বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জের চিকিৎসাবঞ্চিত ও অবহেলিত চরাঞ্চলবাসীর দোরগোড়ায় পৌঁছেছে আধুনিক চিকিৎসাসেবা। নদীবেষ্টিত এই জনপদের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে এসেছে অত্যাধুনিক ভাসমান হাসপাতাল-জাহাজ। আজ শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) থেকে জাহাজটিতে আনুষ্ঠানিকভাবে দুই মাসব্যাপী বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) জাহাজটি উপজেলার কাজীরহাট থানার বিদ্যানন্দপুর ইউনিয়নে নোঙর করেছে। মধ্যপ্রাচ্যের একটি দাতা সংস্থার অর্থায়নে পরিচালিত ভাসমান হাসপাতালটির নাম ‘কিং আবদুল্লাহ বিন আবদুল আজিজ মোবাইল হাসপাতাল বাংলাদেশ’ (কেএএপি-এমএইচবি-৫)।
হাসপাতালটির অবস্থান প্রসঙ্গে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. ইমরানুর হক বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে জাহাজটি উপজেলা সদরে স্থাপনের পরিকল্পনা ও চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে স্থানীয় কিছু জটিলতা ও আপত্তির কারণে এটি বিদ্যানন্দপুর ইউনিয়নে নোঙর করতে হয়েছে। ফলে সদর ও উপজেলার দক্ষিণপাড়ের চারটি ইউনিয়নের মানুষের যাতায়াতে কিছুটা অসুবিধা বা ভোগান্তি হতে পারে। তবে সবাই চিকিৎসাসেবা নিতে পারবেন।’
অবস্থানগত কিছুটা অসুবিধা থাকলেও এই উদ্যোগে উচ্ছ্বসিত চরাঞ্চলের বাসিন্দারা। দীর্ঘদিন ধরে মানসম্মত চিকিৎসাসেবার অভাবে কবিরাজ ও ওঝার ওপর নির্ভরশীল বিদ্যানন্দপুরের স্থানীয় বাসিন্দারা দুই মাসের জন্য উন্নত চিকিৎসাসেবা পাওয়ার আশা করছেন।
বিদ্যানন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. শাহ আলম বলেন, ‘আমাদের চিকিৎসা পাওয়ার তেমন কোনো উপযুক্ত ব্যবস্থা ছিল না। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নদী পার হয়ে যাতায়াত করা অনেক কষ্টের। অনেকে পার্শ্ববর্তী মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ওপর নির্ভর করে। অবশেষে আমরা সাময়িক সময়ের জন্য হলেও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও আধুনিক চিকিৎসার সুযোগ পেতে যাচ্ছি। এটি আমাদের জন্য বড় একটি স্বস্তির বিষয়।’
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, যেসব দরিদ্র ও অসচ্ছল মানুষের পক্ষে বরিশাল বা ঢাকায় গিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা খরচ করে চিকিৎসা নেওয়া সম্ভব নয়, এই ভাসমান হাসপাতালের মাধ্যমে তাঁরা হাতের নাগালেই উন্নত ও আধুনিক চিকিৎসাসেবা পাবেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. ইমরানুর হক জানান, ভাসমান হাসপাতালটিতে প্রতিদিন আনুমানিক ১৫০ থেকে ২০০ জন রোগীকে বিনা মূল্যে প্রাথমিক চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়া হবে। সাধারণ চিকিৎসার পাশাপাশি নির্ধারিত দিনে চোখ, দাঁত ও হাড়ের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা রোগীদের সেবা দেবেন। এ ছাড়া ছানি অপারেশনসহ ছোটখাটো বিভিন্ন মাইনর সার্জারিও সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে করা হবে।
দূর-দূরান্তের চরাঞ্চলের রোগীদের হাসপাতালে যাতায়াত সহজ করতে বিশেষ পরিবহন হিসেবে ছোট নৌযানের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।