বরিশালের মুলাদীতে মাদক ও জুয়ার আসর বন্ধের ঘোষণা দেওয়াকে কেন্দ্র করে হামলার শিকার শুক্কুর আলী ব্যাপারী (৪০) নামের এক বিএনপি নেতার মৃত্যু হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার ভোর ৪টার দিকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে মীরগঞ্জ ফেরিঘাট এলাকায় তাঁর মৃত্যু হয়। এর আগে গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় উপজেলার গাছুয়া ইউনিয়নের ডুমুরীতলা ফরাজী বাড়ি লঞ্চঘাট এলাকায় হামলার শিকার হন তিনি।
নিহত শুক্কুর আলী ব্যাপারী উপজেলার গাছুয়া ইউনিয়নের চরধলেশ্বর গ্রামের আব্দুস ছত্তার ব্যাপারীর ছেলে। তিনি গাছুয়া ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য এবং উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক শরীয়ত উল্লাহর ভাতিজা।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার উপজেলার ডুমুরীতলা লঞ্চঘাট এলাকায় মাদকের আড্ডা, জুয়া খেলা এবং নয়াভাঙনী নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধের ঘোষণা দেন শুক্কুর আলী। স্থানীয় লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে এসব কর্মকাণ্ড প্রতিহত করার কথাও জানান তিনি।
পরিবারের অভিযোগ, ওই ঘটনার জের ধরে গতকাল সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে ডুমুরীতলা ফরাজী বাড়ি লঞ্চঘাট এলাকার সালাউদ্দীনের দোকানে চা খাওয়ার সময় শুক্কুর আলীর ওপর হামলা চালানো হয়।
নিহতের বাবা আব্দুস ছত্তার ব্যাপারীর অভিযোগ, ডুমুরীতলা গ্রামের মোতালেব ওরফে মতু ফরাজীর ছেলে রহমত ফরাজী (৩৮) ও বারেক ফরাজীর (৩৬) নেতৃত্বে কয়েকজন শুক্কুর আলীকে মারধর করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসক তাঁকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মীরগঞ্জ ফেরিঘাট এলাকায় পৌঁছালে ভোর ৪টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বারেক ফরাজী হামলা ও মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, লঞ্চঘাট এলাকায় দোকানের সামনে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে শুক্কুর ব্যাপারীর সঙ্গে তাঁদের হাতাহাতি হয়েছিল। তবে তাঁকে মারধর করে আহত করার অভিযোগ সঠিক নয়।
মুলাদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার মো. সোহেল রানা বলেন, গতকাল সন্ধ্যায় তাঁকে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
ওসি আরও বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।