বরিশালে মাদকের আস্তানা সন্দেহে একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে পুলিশের এক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ও এক নারীসহ চারজনকে আটক করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। অভিযানের সময় ওই এএসআই টিনের চালের ওপর দিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন বলে জানিয়েছে অধিদপ্তর।
আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে নগরীসংলগ্ন দক্ষিণ কড়াপুর গ্রামের মিরাজ হাওলাদারের বাড়িতে এ অভিযান চালানো হয়। আটক এএসআই দেলোয়ার হোসেন বরিশাল বিমানবন্দর থানায় কর্মরত। পরে তাঁকে বিমানবন্দর থানার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
আটক অন্যরা হলেন ওই বাড়ির মৃত এমএ বারির ছেলে মো. মিরাজুল ইসলাম (৩৪), বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার ভট্টখামার নোয়াপাড়া এলাকার নাহিদ হাসান (২৬) এবং নগরীর পলাশপুর এলাকার ফাতেমা আক্তার নুরজাত (৩০)।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মো. জাহিদুল ইসলাম জানান, মিরাজ হাওলাদারের বাড়িতে মাদক কেনাবেচা, সেবন ও আড্ডা হয়—এমন তথ্যের ভিত্তিতে সকালে বাড়িটি ঘেরাও করা হয়। পরে স্থানীয় লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে নির্দিষ্ট একটি ঘরে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে ঘর থেকে চারজনকে আটক করা হয়। এ সময় সেখান থেকে ইয়াবা সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধার করা হলেও কোনো মাদকদ্রব্য পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি।
পরিদর্শক জাহিদুল ইসলাম বলেন, মিরাজুল ইসলাম মাদকাসক্ত হওয়ায় তাঁর স্ত্রী অনেক আগে তাঁকে ছেড়ে চলে গেছেন বলে স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা গেছে। নুরজাত নামের ওই নারী যৌনকর্মী বলে ধারণা করা হচ্ছে। আর এএসআই দেলোয়ারের ওই বাড়িতে নিয়মিত যাতায়াত ছিল বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
পরিদর্শক আরও জানান, অভিযানের সময় দেলোয়ার টিনের চালের ওপর লাফিয়ে পড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। পরে তাঁকে আটক করে পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর বিমানবন্দর থানায় খবর দেওয়া হয়। থানার পরিদর্শক শাহাবুদ্দিন ঘটনাস্থলে গেলে দেলোয়ারকে তাঁর জিম্মায় দেওয়া হয়। অন্য তিনজনকে আটক দেখিয়ে নিয়মিত মামলা করা হয়েছে। তাঁদের ডোপ টেস্ট করানো হবে।
এ বিষয়ে বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, এএসআই দেলোয়ারের বিষয়টি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।