বরিশালের মুলাদীতে চাঁদা আদায়, মাছ ও জাল ছিনিয়ে নেওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে জেলেদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ৩২ থেকে ৩৫টি হাতবোমা বিস্ফোরণে ট্রলারচালক ও জেলেসহ অন্তত পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
গতকাল রোববার রাত ৮টার দিকে উপজেলার সফিপুর ইউনিয়নের নোমরহাট খেয়াঘাটের উত্তর পাড়ে জয়ন্তী নদীতে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
আহত ব্যক্তিরা হলেন সফিপুর গ্রামের ট্রলারচালক আজিজুল খান (২৪), জেলে জহিরুল ইসলাম (২৫) এবং মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার ষোলঘর গ্রামের আবদুল জলিল ব্যাপারী (৪২)। এ ছাড়া জাকির হোসেন (৩০) ও মোসলেম উদ্দীন ঘরামী (২৮) নামের আরও দুজন আহত হয়েছেন।
স্থানীয় জেলেদের ভাষ্য, সফিপুর ইউনিয়নের বড় লক্ষ্মীপুর গ্রামের কাসেম পালোয়ানের ছেলে জামাল পালোয়ান ওরফে ‘বোমারু জামাল’ নোমরহাটের পশ্চিম পাশে একটি আড়তঘর তৈরি করে মাছের ব্যবসা করে আসছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে জেলেদের নির্যাতন, চাঁদা আদায় এবং মাছ ও জাল ছিনিয়ে নেওয়ার একাধিক অভিযোগ রয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছিলেন স্থানীয় জেলেরা।
জেলেরা জানান, এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত শনিবার তাঁরা জামাল পালোয়ানকে আটক করেন। পরে তাঁকে জয়ন্তী নদীর নোমরহাট খেয়াঘাটের দক্ষিণ পাড়ে নিয়ে মারধর করা হয়। এরপর তাঁকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার চেষ্টা করেন জেলেরা। তবে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার সুপারিশে পরবর্তী সময়ে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
স্থানীয় জেলে সরোয়ার সরদারের অভিযোগ, ওই ঘটনার প্রতিশোধ নিতে রোববার রাত ৮টার দিকে জামাল পালোয়ান ও তাঁর সহযোগী স্বপন পালোয়ানসহ ৮ থেকে ১০ জনের একটি দল অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে জয়ন্তী নদীতে জেলেদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় তাঁরা ৩২ থেকে ৩৫টি হাতবোমা নিক্ষেপ করেন। বিকট শব্দে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বোমার বিস্ফোরণে ঘটনাস্থলেই পাঁচজন রক্তাক্ত ও দগ্ধ হন।
পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হওয়ায় ট্রলারচালক আজিজুল খানকে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়। জেলে জহিরুল ইসলামকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক শফিকুল ইসলাম শোভন জানান, আহত ব্যক্তিদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আশঙ্কাজনকভাবে পুড়ে গেছে। তাঁদের মধ্যে দুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। একজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। বাকি দুজন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
আহত জেলে জাকির হোসেন বলেন, ঘটনার পর থেকে নোমরহাট ও জয়ন্তী নদীসংলগ্ন এলাকায় সাধারণ জেলেদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। তাঁরা এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে জামাল পালোয়ানসহ হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।
এ বিষয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার মো. সোহেল রানা জানান, জেলেদের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং মামলা দায়ের করা হবে। এরই মধ্যে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান শুরু হয়েছে।