বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে রোগীর চাপ বাড়ায় পুরোনো ভবনের নিচতলায় করা হয়েছে নতুন একটি মেডিসিন ইউনিট। এরপরও রোগীদের জায়গা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ফলে অনুসন্ধান কেন্দ্র থেকে শুরু করে গেট, বাথরুম ও লিফলেটের পাশে যেখানে ফাঁকা জায়গা রয়েছে, সেখানেই রাখা হয়েছে রোগী। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত, কিডনি-সংক্রান্ত এবং হার্টের জটিলতা নিয়ে ভর্তি হওয়া রোগীদেরও রাখা হয়েছে একইভাবে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দৈনিক অন্তর্বিভাগে গড়ে ৩ হাজার রোগী ভর্তি থাকে। অথচ শয্যা রয়েছে ১ হাজার। এ ছাড়া বহির্বিভাগে দৈনিক চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে ৩ হাজার রোগীকে। অথচ জনবল নেই অর্ধেকও। সম্প্রতি হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরিস্থিতি মোকাবিলায় এক হাজারের স্থলে ৩ হাজার শয্যার অনুমোদন চেয়ে মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
গতকাল শনিবার দুপুরে গিয়ে দেখা গেছে, গেটের চারপাশেও রোগী শুয়ে আছে। পুরোনো ভবনের নিচতলার মেঝেতে এক মাস আগে মেডিসিন ইউনিট-৬ চালু করা হয়েছে। সেখানে দৈনিক ৩০০ রোগী ভর্তি থাকছে। এমনকি বারান্দা এবং বাথরুম ও লিফটের পাশেও রোগী রাখা হয়েছে।
পুরোনো ভবনের নিচতলার মেঝেতে থাকা বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের ছাত্র শাহিনুর রহমান বলেন, শুক্রবার জ্বর নিয়ে এসেছেন, কিন্তু ওয়ার্ডে জায়গা হয়নি। চিকিৎসা কী যে হচ্ছে, তা-ও বুঝতে পারছেন না।
এক সপ্তাহ আগে ডেঙ্গু নিয়ে ভর্তি হওয়া পিরোজপুরের স্বরূপকাঠির মো. ইয়াছিনের বাবা বলেন, কয়েক দিন অবস্থা খারাপ ছিল। এখন কিছুটা সুস্থ। ডেঙ্গু ওয়ার্ডে জায়গা নেই, তাই মেঝেতে আছেন।
বুকে ব্যথা নিয়ে মেঝেতে শুয়ে ছিলেন পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার গৃহিণী লতিফা আকার। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, কোনো চিকিৎসা পাচ্ছেন না। ডাক্তার নেই, নার্স নেই। অসহায়ভাবে মেঝেতে পড়ে আছেন।
হাসপাতালের পুরোনো ভবনের দোতলায় শিশু ওয়ার্ডের বাইরে রোগী রাখার জায়গা নেই। সন্তানদের নিয়ে স্বজনেরা অসহায়ভাবে বসে আছেন। সেখানে ভর্তি ঝালকাঠির নলছিটি থেকে আসা রোগীর স্বজন আবদুর রহমান বলেন, তাঁর সন্তানের নিউমোনিয়া হয়েছে। জায়গা নেই বসার। তাই দাঁড়িয়ে আছেন। সনিয়া আক্তার নামক এক রোগীর মা বলেন, আল্লাহ যেন এখানে কাউকে না আনে।
হাসপাতালের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘কয়েক মাস ধরে রোগী নিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এই অবস্থায় কী করবে? আবার কতিপয় প্রভাবশালী চিকিৎসকের কাছে কর্তৃপক্ষও অসহায়। তাঁরা হাসপাতালে সেবার চেয়ে বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসায় ব্যস্ত থাকেন। এই মুহূর্তে সরকার দ্রুত উদ্যোগ না নিলে সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হবে না।’
এ ব্যাপারে শেবাচিম হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মোহাম্মাদ মাহমুদ হাসান বলেন, ৫০০ শয্যা যখন চালু হয়, তখন মঞ্জুরীকৃত চিকিৎসকের সংখ্যা ছিল ৩২৩। এখন হাজার শয্যা হলেও চিকিৎসক আছেন ২৩৬ জন।
ডা. মাহমুদ আরও বলেন, হাসপাতালটিতে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে জনবল ও অবকাঠামো দরকার। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সম্প্রতি ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় ১ হাজার শয্যার পরিবর্তে শেবাচিম হাসপাতাল ৩ হাজার শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়। সে অনুযায়ী স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে।