হোম > সারা দেশ > বরিশাল

শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মাদ্রাসাশিক্ষককে গণপিটুনির পর অব্যাহতি

মুলাদী (বরিশাল) প্রতিনিধি 

প্রতীকী ছবি

বরিশালের মুলাদীতে এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মো. হেলাল উদ্দীন (২১) নামে এক মাদ্রাসাশিক্ষক ও মসজিদের ইমামকে গণপিটুনি দিয়েছে স্থানীয় ক্ষুব্ধ জনতা। পরে চাকরি থেকে অব্যাহতির শর্তে মুচলেকা নিয়ে তাঁকে উদ্ধার করা হয়।

মো. হেলাল উদ্দীন পটুয়াখালীর মহিপুর উপজেলার বাসিন্দা। তিনি মুলাদী উপজেলার স্থানীয় একটি মাদ্রাসার শিক্ষক এবং জামে মসজিদের ইমাম হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল রোববার বেলা ১১টার দিকে মাদ্রাসার একটি কক্ষে ৬ বছর বয়সী এক ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা করেন হেলাল উদ্দীন। পরে শিশুটি বাড়িতে গিয়ে বিষয়টি তার অভিভাবকদের জানালে স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

ওই দিন এশার নামাজ শেষে স্থানীয়রা মসজিদ থেকে হেলাল উদ্দীনকে আটক করেন। পরে তাঁকে মুলাদীর স্থানীয় একটি মসজিদের দোতলায় নিয়ে হাত-পা বেঁধে গণপিটুনি দেওয়া হয়। খবর পেয়ে তাঁর মসজিদের মুসল্লিরা সেখানে যান এবং চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়ার শর্তে তাঁকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। ওই রাতেই তাঁকে শিক্ষকতা ও ইমামতির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

ওই মাদ্রাসার মুহতামিম ইউসুফ আলী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, শিক্ষক হেলাল উদ্দীনের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ওই দিন রাতেই তাঁকে প্রতিষ্ঠান থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় মুসল্লি আবুল কালাম হাওলাদার বলেন, ‘শিশুটির সঙ্গে অশালীন আচরণের অভিযোগে এশার নামাজ শেষে ইমামকে কয়েকজন ধরে নিয়ে যায়। পরে একটি মসজিদ থেকে তাঁকে আহতাবস্থায় উদ্ধার করা হয় এবং মুচলেকা দিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে রাতেই বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়।’

এ ব্যাপারে মুলাদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার মো. সোহেল রানা বলেন, ‘শিশুকে ধর্ষণচেষ্টা এবং শিক্ষককে মারধরের বিষয়ে থানায় কেউ লিখিত অভিযোগ দেননি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’