হোম > সারা দেশ > বরগুনা

তালতলীতে সার ডিলার নিয়োগে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ

আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি 

ফাইল ছবি

বরগুনার তালতলী উপজেলার সাতটি ইউনিয়নে সার ডিলার নিয়োগে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নিয়োগ যাচাই-বাছাই কমিটির সদস্যের মতামত না নিয়ে তালিকা পাঠানো এবং ভুয়া চুক্তিনামা তৈরির মাধ্যমে ডিলারশিপ হাসিলের বিষয়ে বরগুনা জেলা প্রশাসক ও জেলা সার-বীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতির কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

আজ সোমবার (১২ অক্টোবর) মিথিলা এন্টারপ্রাইজের মালিক মিলন, মৃধা এন্টারপ্রাইজের মালিক মাসুদ রানা ও আবদুল্লাহ এন্টারপ্রাইজের মালিক ইব্রাহিম এই অভিযোগ দেন। বরগুনা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক এস এম মো. বদরুল আলম অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

জানা গেছে, গত ১৩ আগস্ট তালতলী উপজেলার সাতটি ইউনিয়নে সার ডিলার নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন বরগুনা জেলা প্রশাসক। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী মোট ৭০ জন ব্যবসায়ী আবেদন করেন।

নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষে ডিলার নিয়োগ যাচাই-বাছাই কমিটির সদস্য মো. মাহবুবুল আলম মামুন অভিযোগ করে বলেন, ‘উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অতীশ সরকার এবং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আবু জাফর আমার কোনো মতামত নেননি। তাঁরা নিজেদের ইচ্ছেমতো তালিকা তৈরি করে জেলা কার্যালয়ে পাঠিয়ে দিয়েছেন।’

অন্যদিকে, পঁচাকোড়ালিয়া ইউনিয়নে মনোনীত ডিলার সিকদার এন্টারপ্রাইজের মালিক মো. রকিবুল ইসলামের বিরুদ্ধে ভুয়া গুদাম চুক্তিনামা তৈরির অভিযোগ তুলেছেন অন্য তিন আবেদনকারী—মিথিলা এন্টারপ্রাইজের মালিক মো. মিলন, মৃধা এন্টারপ্রাইজের মালিক মাসুদ রানা এবং আবদুল্লাহ এন্টারপ্রাইজের মালিক ইব্রাহিম। তাঁদের দাবি, একটি অসাধু চক্র মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে অবৈধভাবে রকিবুল ইসলামকে ডিলার হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে।

যে ঘরের চুক্তিনামা দেখানো হয়েছে, সেই ঘরের মালিক স্বপন চন্দ্র শীল বলেন, ‘আমি রকিবুল ইসলাম নামের কারও কাছে সারের গুদাম তৈরির জন্য ঘর ভাড়া বা চুক্তিনামা দিইনি। আমার স্বাক্ষর জাল করে এই চুক্তিনামা বানানো হয়েছে। জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’

তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে সিকদার এন্টারপ্রাইজের মালিক মো. রকিবুল ইসলাম বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমি যথাযথ নিয়ম মেনেই আবেদন করেছি এবং ডিলারশিপ পেয়েছি।’

এ বিষয়ে তালতলী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও ডিলার যাচাই-বাছাই কমিটির সদস্যসচিব মো. আবু জাফর বলেন, ‘আবেদনকারীদের সব তালিকা জেলায় পাঠানো হয়েছে। সিকদার এন্টারপ্রাইজের গুদাম চুক্তিনামার জালিয়াতির বিষয়ে আমি কিছু জানি না।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সার ডিলার বাছাই কমিটির সভাপতি অতীশ সরকার জানান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও তাঁর টিম আবেদনকারীদের তথ্য যাচাই-বাছাই করেছেন। কৃষি কর্মকর্তার মতামতের ওপর ভিত্তি করেই তালিকা জেলায় পাঠানো হয়েছে।

বরগুনার জেলা প্রশাসক তাছলিমা আক্তারের মোবাইল ফোনে কল দিয়ে পাওয়া যায়নি। তবে বরগুনা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক এস এম মো. বদরুল আলম বলেন, ‘এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’