বঙ্গোপসাগরে মাছ শিকার শেষে ফেরার পথে প্রচণ্ড ঢেউয়ের আঘাতে বরগুনার তালতলী উপজেলার ‘এফবি জান্নাত-জুনায়েদ’ নামের একটি ট্রলার ডুবে গেছে। এ ঘটনায় ট্রলারে থাকা ১১ জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও দুই জেলে এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টায় এসব তথ্য নিশ্চিত করেন তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অতীশ সরকার। এর আগে সকাল ৮টার দিকে পটুয়াখালী জেলার কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত এলাকা-সংলগ্ন ২৫ কিলোমিটার দূরে বঙ্গোপসাগরে ট্রলারডুবির ঘটনাটি ঘটে।
নিখোঁজ জেলেরা হলেন তালতলী উপজেলার বড়বগী ইউনিয়নের বড় ভাইজোড়া এলাকার মনির হোসেনের ছেলে মো. রাকিব (১৯) এবং নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের পাওয়াপাড়া এলাকার হরমুজ আলী হাওলাদারের ছেলে নবী হোসেন (৪৫)। উদ্ধার হওয়া জেলেদের মধ্যে ছয়জন তালতলী উপজেলার বাসিন্দা এবং পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার চারজন ও একজন খুলনা জেলার বাসিন্দা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তালতলী উপজেলার বড়বগী ইউনিয়নের সওদাগরপাড়া এলাকার আল-আমীন ও গোলাম রাব্বির যৌথ মালিকানাধীন এফবি জান্নাত-জুনায়েদ’ নামের ট্রলারটি পটুয়াখালী জেলার মহিপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র থেকে গত শনিবার রাতে ১৩ জন জেলে নিয়ে বঙ্গোপসাগরে মাছ শিকার করতে যায়। গতকাল সোমবার সাগরের আবহাওয়া খারাপ ও উত্তাল হয়ে উঠলে জেলেরা ট্রলার নিয়ে উপকূলে ফিরতে শুরু করেন। আজ সকালে ট্রলারটি কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত এলাকা-সংলগ্ন ২৫ কিলোমিটার দূরে বঙ্গোপসাগরে পৌঁছালে প্রচণ্ড ঢেউয়ের তোড়ে উল্টে পড়ে ডুবে যায়। দুর্ঘটনার পর সাগরে ভাসতে থাকা অবস্থায় অন্য একটি মাছ ধরার ট্রলার এগিয়ে এসে ১১ জেলেকে জীবিত উদ্ধার করে। পরে তাঁরা ওই ট্রলারে নিরাপদে উপকূলে ফেরেন। তবে এখনো দুই জেলে নিখোঁজ রয়েছেন।
উদ্ধার হওয়া জেলে ও ট্রলারের মালিক মো. আল-আমীন বলেন, ‘প্রচণ্ড ঢেউয়ের তোড়ে ট্রলারটি হঠাৎ উল্টে যায়। আমরা ১১ জন সাঁতরে বের হতে পারলেও ভেতরের কেবিনে দুজন আটকে পড়েন। পরে সাগরে ভাসতে থাকা অবস্থায় অন্য একটি ট্রলার আমাদের দেখতে পেয়ে উদ্ধার করে। তবে সাগর প্রচণ্ড উত্তাল থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে নিখোঁজ দুই জেলেকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।’
ইউএনও অতীশ সরকার বলেন, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। নিখোঁজ দুই জেলেকে উদ্ধারে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে এবং উদ্ধার হওয়া জেলেদের খোঁজখবর রাখা হচ্ছে।