হোম > সারা দেশ > বরগুনা

নবীনবরণে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান, ৩২ জনের বিরুদ্ধে মামলা

বরগুনা প্রতিনিধি

ওই ব্যক্তির ও তার সন্তানের নাগরিকত্ব বাতিলের ব্যবস্থা নিচ্ছে কুয়েত। ছবি: পিক্সাবে

বরগুনার আমতলীতে একটি কলেজের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়াকে কেন্দ্র করে ৩২ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৫০ থেকে ৬০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। অন্যদিকে, এই ঘটনা ঘিরে স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে চার শিক্ষার্থীকে তুলে নিয়ে আটকে রেখে নির্যাতন করার অভিযোগ উঠেছে। পরে ওই চার শিক্ষার্থীকে পুলিশে সোপর্দ করা হলে আদালত তাঁদের কারাগারে পাঠান।

গতকাল শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাতে উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. রিজাউল কবির বাদী হয়ে আমতলী থানায় এই মামলাটি করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার মহিষকাটা এলাকার ইউনুস আলী খাঁন ডিগ্রি কলেজে একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ ও আনন্দ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক জালাল উদ্দীন ফকির। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব তুহিন মৃধা, বরগুনা দ্বিতীয় জজ আদালতের অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি (এপিপি) অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন ও আমতলী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের এপিপি মো. মাহবুবুল আলমসহ অন্যান্য অতিথিরা।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষ হওয়ার পর কয়েকজন নবীন শিক্ষার্থী ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেন। পরবর্তীতে স্লোগান দেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। এতে জালাল উদ্দীন ফকির ক্ষুব্ধ হন বলে অভিযোগ রয়েছে।

পরদিন শুক্রবার দুপুরে কলেজের সামনে থেকে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের কলেজ শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুল কাজী ও নবীন শিক্ষার্থী সুজাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন, অ্যাডভোকেট মাহবুবুল আলম, জালাল উদ্দীন ফকিরের ছেলে ফাহাদ ফকির এবং ছাত্রদল ও যুবদলের কয়েকজন নেতা-কর্মীর নাম উঠে আসে।

এর প্রায় তিন ঘণ্টা পর জুমার নামাজ শেষে চুনাখালী মসজিদের সামনে থেকে মো. আসিফ ও মো. তামিম নামে আরও দুই শিক্ষার্থীকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় বলে জানান নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী।

আসিফের পরিবারের অভিযোগ, এই চার শিক্ষার্থীকে উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ে আটকে রেখে জালাল উদ্দীন ফকিরের উপস্থিতিতে নির্যাতন করা হয়। পরবর্তীতে রাত ৯টার দিকে তাঁদের আমতলী থানা-পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হয়।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত বৃহস্পতিবার নবীনবরণ চলাকালে কয়েকজন ব্যক্তি উচ্চস্বরে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে চলে যান, যা থেকে পরবর্তীতে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।

অভিযোগ করা হয়, ওই দিন রাত ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে আসামিরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে কলেজের সামনে জড়ো হন। তাঁরা কলেজের ফটক ও সামনের সেতু ভাঙচুর করেন এবং টায়ারে আগুন জ্বালান। এতে আনুমানিক ৫০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে।

মামলার বাদী রিজাউল কবিরের দাবি, তিনি মোটরসাইকেলে বাড়ি ফেরার পথে অভিযুক্তরা তাঁকে বিএনপির কর্মী বলে গালিগালাজ করে। একপর্যায়ে হত্যার উদ্দেশে তাঁর ওপর হামলা চালিয়ে মারধর করা হয়।

আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইয়াকুব হোসাইন জানান, নবীনবরণ অনুষ্ঠানে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ায় চারজনকে আটক করে বরগুনা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় ৩২ জনের নাম উল্লেখ করে এবং ৫০-৬০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশের অভিযান চলছে।