জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও বরগুনা-২ আসনের এমপি নূরুল ইসলাম মনি বলেছেন, ‘শেখ হাসিনা বছরে ৩৫ কোটি টাকা খেয়েছেন। আমি শুনেছি, প্রতিদিন দুপুরে তাঁর খাবারের বিল হতো সাড়ে ১০ লাখ টাকা। সেখানে তারেক রহমান ১৫০ টাকায় দুপুরের খাবার খান। এর নাম তারেক রহমান। এই মানুষটাকে দেখার পর একজন মানুষ যদি সত্যি দেশকে ভালোবাসেন, সে কান্না না করে পারে?’
আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় বরগুনার বামনা উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ত্রাণের ডিও ও গাছের চারা বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
নূরুল ইসলাম মনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্বাভাবিক সাধারণ জীবন যাপন করেন। একটা শার্ট গায়ে দিয়ে হাঁটেন, একটা প্যান্ট পরে হাঁটেন। অনেক সময় এসএসএফ বা অন্য কোনো লোক না থাকলে তিনি সাধারণ মানুষের মতো হেঁটে যান, আপনি বুঝতেও পারবেন না।’
চিফ হুইপ বলেন, ‘জিয়াউর রহমানের মতো একজন মহৎ মানুষের রক্ত তারেক রহমানের শরীরে। তিনি একজন সহজ-সরল ও সৎ মানুষ। একজন কর্মপাগল, গরিবদরদি ও মানবদরদি মানুষ। কষ্টে মানুষ আছে, এটা দেখলে তাঁর হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়। সেই তারেক রহমান যদি সারা দিন কাজ করেন আর আমি যদি কম কাজ করি, পোষায়? যে কারণে আমি ইচ্ছা করলেও বামনায় আসতে পারি না।’
চিফ হুইপ আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী প্রথম ক্যাবিনেটের মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, এ দেশের কৃষকদের কৃষিঋণের ১০ হাজার টাকা সুদসহ মওকুফ করা হবে। তিনি সেটি করেছেন। তিনি ফ্যামিলি কার্ড দিয়েছেন। আমাদের মায়েরা যেন সন্তানসন্ততি নিয়ে বেঁচে থাকতে পারেন, তার ব্যবস্থা করেছেন।’
সাবেক প্রেসিডেন্ট প্রয়াত জিয়াউর রহমানের কর্মকাণ্ড নিয়ে চিফ হুইপ বলেন, জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসে তিন বছরের মধ্যে দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করেছেন। তিনি যশোর থেকে খাল কাটা কর্মসূচি শুরু করেছিলেন। এরপর মানুষের বাড়িতে পানি পৌঁছালেন, ফসল ফলালেন। গার্মেন্টস ব্যবসা বিকশিত হয় তাঁর হাত ধরে। সৌদি আরবে বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয় তাঁর হাত ধরে। সৌদিতে জিয়াউর রহমানের উপহার দেওয়া নিমগাছকে এখন সবাই জিয়া ট্রি ডাকে।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে নূরুল ইসলাম মনি বলেন, ‘হিন্দুরা বিশ্বাস করে বিএনপি সরকার যা বলে তা করে। সরকার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকার আদায়ে ও রক্ষায় যা করণীয়, তার সবটাই করতে প্রস্তুত এবং করবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আমাকে কারা ভোট দিয়েছেন বা দেননি, সেটা দেখার বিষয় নয়। আমি সকলের প্রধানমন্ত্রী।’
বিরোধী দলের উদ্দেশে চিফ হুইপ বলেন, ‘মায়ের পেটে সন্তান বেড়ে ওঠে ১০ মাসে আর আমরা সংসদে বসেছি মাত্র পাঁচ মাস হলো। এই পাঁচ মাসে আমরা বিদ্যুৎ কোথায় পাব? আমরা কি ডোলায়, কৌটায় বিদ্যুৎ আটকে রাখতে পারব? সম্ভব না।’
চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি আরও বলেন, ‘অকেজো বিদ্যুৎ প্ল্যান্ট বসিয়েছেন হাসিনা। সেই অকেজো বিদ্যুৎ প্ল্যান্টে মাসে মাসে শত শত কোটি টাকা দিয়েছেন। ৩০ লাখ কোটি টাকা এ দেশ থেকে চলে গেছে। এই পদ্ধতিতে টাকাগুলো নিয়ে গেছে। যে কারণে আপনাদের বিদ্যুৎ বিল তিন গুণ বেড়ে গেছে। এই বিল হওয়ার কথা না। কিন্তু করার কিছু নেই। এই পাঁচ মাসে তারেক রহমানের সরকার হাসিনা যে ঋণ করে চুরি করেছেন, সেই ২০৫ কোটি ডলার ঋণ পরিশোধ করেছে।’