বান্দরবানের থানচি উপজেলার পর্যটনকেন্দ্র তিন্দু মুখ এলাকায় পর্যটকবাহী একটি ল্যান্ডক্রুজার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে খাদে পড়ে দুই পর্যটক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
আজ সোমবার বিকেলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে বলিপাড়া ব্যাটালিয়ন (৩৮ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ইয়াসির আরাফাত হোসেনের নির্দেশে তিন্দু মুখ ক্যাম্পের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন।
নিহতরা হলেন মো. জসিম ও মো. জিয়াবুল। তাঁদের বাড়ি কক্সবাজারের খুটাখালী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে বলে জানিয়েছেন স্বজনেরা। এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন ৫ জন। তাঁরা হলেন— মো. রাশেল, মো. লিটন শিকদার, কাদের হোসেন, শাহজালাল ও চালক লিটন। তাঁরা পর্যটক হিসেবে থানচির তিন্দু এলাকায় ভ্রমণে এসেছিলেন।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় বিজিবি সদস্যরা আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দিকে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খুটাখালী থেকে আলীকদম হয়ে তিন্দু মুখ পর্যন্ত গাড়িতে এবং তিন্দু মুখ থেকে বাঘের মুখ পর্যন্ত ভ্রমণের উদেশ্যে আজ সোমবার সকালে বাড়ি থেকে রওনা করেন তাঁরা। পর্যটকবাহী ল্যান্ডক্রুজারটি তিন্দু মুখে তিন্দু সরকারি মাধ্যমিক স্কুলের পাশে পৌঁছে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গভীর খাদে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই দুজনের মৃত্যু হয় এবং আরও পাঁচজন গুরুতর আহত হন।
বিজিবি বলীপাড়া ৩৮ ব্যাটালিয়নের উপপরিচালক মেজর মো. জাকির হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, আহতদের চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সহায়তার বিষয়টিও বিজিবির পক্ষ থেকে তদারকি করা হচ্ছে। দুর্ঘটনার কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক কার্যক্রম চলমান।
থানচি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কানন সরকার বলেন, ঘটনাস্থলে দুজন নিহত হয়েছেন বলে জানতে পেরেছি। বিস্তারিত ঘটনাস্থলে গিয়ে জানতে পারব। নিহতদের উদ্ধারে একটি টিম পাঠিয়েছি। আমরাও নৌকাযোগে ঘটনাস্থলের দিকে যাচ্ছি।
এদিকে স্থানীয় লোকজন ও ৩৮ বিজিবির সদস্যরা আহত পাঁচজনকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য চকরিয়ায় পাঠিয়েছেন।