হোম > সারা দেশ > বান্দরবান

বান্দরবান-থানচি সড়ক: বাসের পর এবার বন্ধ জিপ-মাহেন্দ্র, যাত্রীদের দুর্ভোগ

থানচি (বান্দরবান) প্রতিনিধি  

বান্দরবান-থানচি সড়কে বাস, জিপ ও মাহেন্দ্র চলাচল বন্ধ রয়েছে। ছবি: আজকের পত্রিকা

চাঁদাবাজির প্রতিবাদে বান্দরবান-থানচি সড়কে টানা তিন দিন বাস চলাচল বন্ধ থাকার পর এবার ভিন্ন এক ইস্যুতে চাঁদের গাড়ি (জিপ) ও মাহেন্দ্র চলাচলও বন্ধ করেছেন চালকেরা। আজ শনিবার দুপুরে জিপ ও মাহেন্দ্রচালক সমিতির নেতারা এ সিদ্ধান্ত নেন। এতে বান্দরবান জেলা সদর ও থানচি উপজেলা সদরের মধ্যে সড়ক যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ফলে জরুরি কাজসহ নানা প্রয়োজনে যাতায়াত করতে না পেরে দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

চালক সমিতির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পর্যটকেরা দলবদ্ধভাবে গাড়ি ভাড়া বা রিজার্ভ করে যাতায়াত করতে পারবেন। তবে পথে স্থানীয় বাসিন্দাদের গাড়িতে তুলে লোকাল যাত্রী পরিবহন করা যাবে না।

নিয়মিত যাতায়াতের জন্য এসব পরিবহনের ওপর নির্ভরশীল স্থানীয় মানুষ এতে বিপাকে পড়েছেন।

জিপচালক সমিতির লাইনম্যান মো. কামাল বলেন, পর্যটকেরা দলবদ্ধভাবে গাড়ি রিজার্ভ করে যাতায়াত করতে পারবেন। এতে কোনো বাধা নেই। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের লোকাল যাত্রী হিসেবে গাড়িতে তোলা যাবে না।

থানচি জিপচালক সমিতির সভাপতি মংসিংহ্লা মারমা ও সাধারণ সম্পাদক লোকমান এ সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে বাস চলাচল বন্ধের বিষয়ে বাসচালক সমিতির সভাপতি মো. খালেদ বলেন, বাস চলাচল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে। সড়কে একটি পক্ষ তাঁদের কাছে অতিরিক্ত চাঁদা দাবি করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

খালেদ বলেন, ‘আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী দাবি করা হলে আমরা দিতে পারতাম। কিন্তু অতিরিক্ত টাকা দাবি করায় আমরা অপারগতা প্রকাশ করেছি।’

বাসচালক জহির উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের সামর্থ্যের বাইরে অতিরিক্ত টাকা দাবি করা হলে তা দেওয়া সম্ভব নয়। আমাদের অবস্থাটাও বিবেচনা করতে হবে। সামর্থ্যের মধ্যে দাবি করা হলে আমরা দিতে পারতাম।’

বান্দরবান, রুমা, রোয়াংছড়ি ও থানচি বাস মালিক সমিতির সভাপতি আবদুল শুকুর বলেন, একটি গ্রুপ অতিরিক্ত চাঁদা দাবি করছে। এর প্রতিবাদে বাস চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।

এদিকে একই সঙ্গে বাস, জিপ ও মাহেন্দ্র চলাচল বন্ধ হওয়ায় বান্দরবান ও থানচির মধ্যে নিয়মিত যাতায়াতকারী স্থানীয় বাসিন্দারা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। চিকিৎসা, ব্যবসা-বাণিজ্য, সরকারি-বেসরকারি কাজসহ জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াত নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তাঁরা পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সাচিংপ্রু জেরীর আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।