কুমিল্লার পদুয়ার বাজারে বাস ও ট্রেন সংঘর্ষের ঘটনায় নিহত ১২ জনের মধ্যে মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার এক যুবক রয়েছেন। গতকাল শনিবার দিবাগত রাতে বাসে শ্বশুরবাড়িতে যাওয়ার পথে ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান তিনি।
নিহত যুবকের নাম মেহেদী হাসান ফসিয়ার (২৫)। তিনি পেশায় টেইলার্স ও বিকাশের ব্যবসা করতেন। তিনি উপজেলার বাঁশো গ্রামের ওহাব শেখের ছেলে। তাঁর মৃত্যুর খবরে মহম্মদপুরের নিজ বাড়িতে এখন চলছে শোকের মাতম।
গতকাল (২১ মার্চ) দিবাগত রাত ৩টার দিকে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার জাঙ্গালিয়া এলাকার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড ফ্লাইওভারের নিচে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদ্যাপন করে বিকেলে স্ত্রীকে বাড়িতে আনতে নোয়াখালী যাচ্ছিলেন ফসিয়ার। রাতে চুয়াডাঙ্গা থেকে নোয়াখালীগামী মামুন পরিবহনের বাসে টিকিট কেটে রওনা হন। কুমিল্লার জাঙ্গালিয়ার পদুয়া বাজারে চট্টগ্রাম মেইল ট্রেনের সঙ্গে ধাক্কায় যাত্রীবাহী মামুন পরিবহনের বাসটি দুমড়েমুচড়ে যায়। পদুয়ার বাজার লেভেল ক্রসিংয়ে বাসটিকে প্রায় আধা কিলোমিটার টেনে নিয়ে যায় ট্রেনটি। এতে ঘটনাস্থলেই ফসিয়ার নিহত হন।
দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে মহম্মদপুর উপজেলার যুবক পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর তাঁর পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মহম্মদপুরে ফসিয়ারের বাড়িতে প্রতিবেশী ও আত্মীয়স্বজনের ভিড় বাড়ছে। পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্বজনেরা। স্থানীয় বাসিন্দারা এই দুর্ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
নিহত ব্যক্তির বড় ভাই বসির শেখ বলেন, ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিতে তাঁর ভাই শ্বশুরবাড়ি যাচ্ছিলেন। কিন্তু পথেই এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা তাঁর প্রাণ কেড়ে নিল।