সমতলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মধ্য থেকে টেকনোক্র্যাট কোটায় একজন মন্ত্রী দাবি করেছে উত্তরবঙ্গ আদিবাসী ফোরাম। আজ শনিবার (২৮ মার্চ) বেলা ১১টায় রাজশাহী প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন থেকে এ দাবি জানানো হয়।
এ ছাড়া সংগঠনের পক্ষ থেকে আরও চারটি দাবি তুলে ধরা হয়। এগুলো হলো—সংরক্ষিত নারী আসনে উত্তরবঙ্গের একজন আদিবাসী নারীর সংসদে প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা, সমতল আদিবাসীদের জন্য পৃথক ভূমি কমিশন গঠন করা, পৃথক আদিবাসীবিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা এবং সংবিধানে আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি প্রদান।
সংবাদ সম্মেলনে তিন বছরের জন্য সংগঠনটির রাজশাহী মহানগর শাখার ৫১ সদস্যবিশিষ্ট নতুন কমিটিও ঘোষণা করা হয়। এতে সভাপতি করা হয় সুমী মুরমুকে। আর সাধারণ সম্পাদক করা হয় ইলিয়াস সরেনকে। পরে ভূমিমন্ত্রী বরাবর একটি স্মারকলিপিও পেশ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি হিংগু মুর্মু। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উত্তরবঙ্গ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট প্রভাত টুডু।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বাংলাদেশের সমতল অঞ্চলে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীগুলো দীর্ঘদিন সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে প্রান্তিক অবস্থায় রয়েছে। রাষ্ট্রের উন্নয়নকাঠামোর বাইরে থেকে যাওয়ায় তাদের অধিকার, ভূমি এবং সাংস্কৃতিক অস্তিত্ব আজও অনিরাপদ রয়ে গেছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের মতো তাদের জন্য পৃথক কোনো প্রশাসনিক বা আইনি কাঠামো না থাকায় ভূমি অধিকার, রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব এবং সাংস্কৃতিক স্বীকৃতির ক্ষেত্রে তারা বঞ্চনার শিকার হচ্ছে।
প্রভাত টুডু বলেন, সমতল ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীগুলোর মধ্য থেকে একজন মন্ত্রী নিয়োগ এবং জাতীয় সংসদে আদিবাসী নারীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা গেলে তাদের সমস্যা ও সম্ভাবনার বিষয়গুলো রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে আরও কার্যকরভাবে উপস্থাপন করা সম্ভব হবে। একইভাবে পৃথক ভূমি কমিশন ও আদিবাসীবিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠন করা হলে দীর্ঘদিনের ভূমি সংকট, উচ্ছেদ, বঞ্চনা ও অধিকারহীনতার সমস্যার টেকসই সমাধান সম্ভব হবে।
উত্তরবঙ্গ আদিবাসী ফোরামের নেতারা আশা প্রকাশ করেন, তাঁদের উত্থাপিত দাবিগুলো বাস্তবায়িত হলে সমতলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা দূর হবে এবং দেশে একটি মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠা পাবে।