ভোলা জেলার সরকারি বক্ষব্যাধি ক্লিনিকের একমাত্র অত্যাধুনিক এক্স-রে মেশিনটি তিন বছরের বেশি সময় অকেজো হয়ে পড়ে রয়েছে। ফলে প্রয়োজন থাকলেও রোগীরা ক্লিনিকে এক্স-রে করাতে পারছেন না। ক্লিনিকের বাইরে বেশি টাকা দিয়ে এক্স-রে করাতে হচ্ছে তাঁদের।
ভোলা সদরের ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের পেছনেই বক্ষব্যাধি ক্লিনিকটি অবস্থিত।
ক্লিনিক সূত্রে জানা গেছে, ভোলার সাত উপজেলার প্রায় ২০ লাখের বেশি মানুষের জন্য বক্ষব্যাধি ক্লিনিকে এক্স-রে মেশিনটি ভারতের জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির উদ্যোগে উপহার দেওয়া হয়। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে মেশিনটি ক্লিনিকে স্থাপন করা হলেও এটি চালু করা যায়নি। সেই থেকে এখন পর্যন্ত অকেজো হয়ে পড়ে রয়েছে প্রায় ১৫ লাখ টাকার বেশি দামের অত্যাধুনিক এক্স-রে মেশিনটি।
গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে সরেজমিনে সরকারি বক্ষব্যাধি ক্লিনিকে গিয়ে দেখা যায়, বহিঃবিভাগে বিভিন্ন এলাকা থেকে অন্তত ১৫-১৬ জন রোগী ক্লিনিকে চিকিৎসাসেবা নিতে এসেছেন। তাঁদের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে এক্স-রে করাতে পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসক।
ভোলা পৌরসভার বাসিন্দা মো. আব্দুল আজিজ বলেন, ‘আমার স্ত্রীর ফুসফুসে সমস্যার কারণে ডাক্তার দেখাতে ভোলা সরকারি বক্ষব্যাধি ক্লিনিকে এসেছি। ডাক্তার এক্স-রে করাতে বলছেন। কিন্তু এই ক্লিনিকে এক্স-রে মেশিন অকেজো থাকায় বাইরে থেকে বেশি টাকা দিয়ে স্ত্রীকে এক্স-রে করাতে হয়েছে।’
ক্লিনিক ঘুরে দেখা যায়, এক্স-রে মেশিনটি যে রুমে রয়েছে সে কক্ষটি তালাবদ্ধ। পরে কক্ষটি দেখতে চাইলে ক্লিনিকের অফিস সহকারী তালা খুলে দেন। কক্ষের ভেতরে ধুলাবালু পড়া বিশালাকৃতির আধুনিক এক্স-রে মেশিনটি চোখে পড়ে। মেশিনের টেবিলেও ধুলাবালু পড়া কাগজপত্র, ব্যাগ রাখা। টেবিলের পাশে রাখা চেয়ারগুলোয় কার্টন, কাপড়ের ব্যাগ রাখা হয়েছে।
জানতে চাইলে ভোলা বক্ষব্যাধি ক্লিনিকের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জুনিয়র কনসালট্যান্ট (বক্ষব্যাধি) ডা. অমিত চ্যাটার্জী আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আমি এই ক্লিনিকে যোগদানের পর দুই দফায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি দিলেও এক্স-রে মেশিনটি আর সচল করা যায়নি। ওই কক্ষে দুটি এসির মধ্যে একটি নষ্ট হয়ে গেছে বলে জানান এই চিকিৎসক।
এ বিষয়ে সিভিল সার্জন মু. মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘২০২৩ সালের দিকে ভারতের জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির পক্ষ থেকে ১৫ লক্ষাধিক টাকার অত্যাধুনিক এক্স-রে মেশিনটি ভোলা বক্ষব্যাধি ক্লিনিককে উপহার দেয়। আমার জানামতে, তখন থেকেই এক্স-রে মেশিনটি বিকল ছিল। এক্স-রে মেশিন সচল রাখতে বহু চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেটি আর সচল করা যায়নি। ফলে রোগীদের বাইরে থেকে এক্স-রে করাতে হচ্ছে।’