ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে ছলিমুন্নেছা পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে দাঁড়িপাল্লা ও ধানের শীষের প্রার্থীর এজেন্টের স্বাক্ষরিত ২৩ ফাঁকা রেজাল্ট শিট জব্দ করেছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৮টার দিকে এগুলো জব্দ করে ছিঁড়ে ফেলা হয়। প্রত্যাহার করা হয় ওই প্রিসাইডিং কর্মকর্তাকে।
এদিকে এ ঘটনার পর ওই ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন বিজিবি, সেনাবাহিনী ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকালে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। কিন্তু আগের দিন রাতেই কালীগঞ্জ উপজেলার ছলিমুন্নেছা পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে আসেন ঝিনাইদহ-৪ আসনের ধানের শীষ প্রতীকের এক পোলিং এজেন্ট। সে সময় কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিসাইডিং কর্মকর্তা জেসমিন আরা ফাঁকা ২৩ রেজাল্ট শিটে স্বাক্ষর করিয়ে নেন। এরপর দাঁড়িপাল্লার প্রতীকের এক এজেন্ট এসে সাতটি রেজাল্ট শিটে স্বাক্ষর করেন।
নিরাপত্তার দায়িত্বরত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সেলিম রেজা বলেন, ‘সাধারণত নিয়ম রয়েছে, ভোট গণনার শেষে এজেন্টরা রেজাল্ট শিটে স্বাক্ষর করবেন। কিন্তু প্রিসাইডিং কর্মকর্তা আগে থেকেই সেটি করিয়েছেন; যা সঠিক হয়নি। আমরা ওই রেজাল্ট শিট জব্দ করেছি। সঙ্গে প্রিসাইডিং কর্মকর্তাকে সতর্ক করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
অভিযুক্ত প্রিসাইডিং কর্মকর্তা জেসমিন আরা বলেন, ‘অনেক সময় ভোট গণনা শেষে অনেক এজেন্টকে পাওয়া যায় না; যে কারণে প্রথমে ধানের শীষের একজন এজেন্ট এলে তাঁকে দিয়ে স্বাক্ষর করানো হয়। পরে জামায়াতের এক এজেন্ট এলে সে ৭টি শিটে স্বাক্ষর করেন। ফলাফল ঘোষণার পর এটি স্বাক্ষর করা উচিত ছিল। কিন্তু আগেই করিয়ে নেওয়া আমার ভুল ছিল।’
কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা রেজওয়ানা নাহিদ বলেন, দায়িত্বরত প্রিসাইডিং কর্মকর্তা বুঝতে না পেরে ফাঁকা রেজাল্ট শিটে আগেই জামায়াত ও দাঁড়িপাল্লার এজেন্টদের দিয়ে স্বাক্ষর করিয়ে নিয়েছিলেন। এটা ঠিক হয়নি। ওই প্রিসাইডিং কর্মকর্তাকে সরিয়ে দিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সেখানে নতুন একজনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।