সিলেটে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সাত দিনের সময় বেঁধে দিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি বলেছেন, ‘ছিনতাই-রাহাজানি রোধে এক সপ্তাহের মধ্যে ইতিবাচক ফল দেখতে চাই। তবে গত মাসের চেয়ে এ মাসে পরিস্থিতি ভালো। তবু আমরা সময় বেঁধে দিয়েছি। এক সপ্তাহের মধ্যে কোনো অভিযোগ শুনতে চাই না।’
আজ রোববার সিলেট জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
সম্প্রতি মালয়েশিয়া সফর প্রসঙ্গে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘এটা তো মিডিয়াতে পরিষ্কার প্রকাশ করা হয়েছে এবং যেটা আমরা জয়েন্ট ভেঞ্চারে স্বাক্ষর করেছি, ওটা রাষ্ট্রীয়ভাবে সব পেপারেই আছে। আমার মনে হয়, এ সফর ফলপ্রসূ ও সফল হয়েছে।
‘আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ব্রাদার (ভাই) হিসেবে গ্রহণ করেছেন এবং আমাদের মালয়েশিয়ার সোর্স দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল, আস্তে আস্তে সবগুলোই ওপেন হবে।’
মন্ত্রী বলেন, ‘শ্রমবাজারে শুধু মালয়েশিয়া কেন, আমরা সব দিকে কাজ শুরু করেছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ও তাঁর তত্ত্বাবধানে ইনশা আল্লাহ আশা করি, ইতিবাচক ফলাফল দেখতে পাবেন।’
প্রধানমন্ত্রীর সিলেট আগমন প্রসঙ্গে প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা তো জানেন যে, সিলেটের মূল সমস্যা কী এবং এটা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিজেই নির্বাচনের আগে বলেছেন। কাজেই, আমাদের কিছু করার দরকার নেই। আমরা জাস্ট সাপোর্ট হিসেবে মনে করিয়ে দেব।’
মন্ত্রী আরও বলেন, ‘ইতিমধ্যে ঢাকা-সিলেট রোডের উন্নয়ন হয়েছে, রেললাইনের কাজ চলমান আছে এবং এম এ জি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাজও চলছে। আমাদের প্রবাসীদের জন্য প্রবাসী ভবন তৈরি করা হচ্ছে। এ রকম অনেক উন্নয়ন হচ্ছে, যা আপনারাও দেখতে পাচ্ছেন।’
আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘হামের যে সমস্যা, সেটা নিয়েও আমরা সভা করেছি। এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজে পাঁচ শয্যাবিশিষ্ট আইসিইউ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এটা ১০টি বা তার বেশি করার পরিকল্পনা আছে। কাজেই, এখানে চিন্তার তেমন কিছু নেই।’
এর আগে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) উদ্দেশে প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী বলেন, ‘সিলেট থেকে তেল বাইরে যেতে পারে। এ জন্য বর্ডারে আলাদা চেকপোস্ট বসান। যদি আমরা এদিকে কন্ট্রোল করতে পারি, দেখবেন, এখানে তেলের বাজারে সংকট হবে না।
‘জ্বালানি তেলে সরকার ভর্তুকি দিচ্ছে, তা যদি আবার অন্যদিকে চলে যায়, তাতে জনগণের কী লাভ হবে? সরকারের ওপর চাপ থাকা সত্ত্বেও এত টাকা করে ভর্তুকি দেওয়ার পরে যদি তেল বাইরে চলে যায়, এটা অত্যন্ত দুঃখজনক।’
শ্রমমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আপনারা এ ব্যাপারে কঠিন থেকে কঠিন অবস্থান নেন। আর আপনারা ইউএনওদের সঙ্গে আলোচনা করে আমাদের বর্ডার যতটুকু জায়গায় প্রোটেকশন দেওয়া দরকার, তা আগে থেকেই করেন।’
সিলেটের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারওয়ার আলমের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন–সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী, নগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী মো. যাবের সাদেক, নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (উত্তর) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম প্রমুখ।