হোম > সারা দেশ > যশোর

বিয়ের প্রলোভনে তরুণীকে ধর্ষণ, চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা

মনিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি

প্রতীকী ছবি

যশোরের মনিরামপুরে সরকারি এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভনে কলেজপড়ুয়া তরুণীকে (১৭) ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গতকাল মঙ্গলবার ভুক্তভোগী বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছে।

অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম রাফসান জানি, তিনি যশোর সদর উপজেলার বাসিন্দা এবং ৪৮তম বিসিএস (স্বাস্থ্য) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে গত মাসে মনিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগদান করেছেন। আর ভুক্তভোগী ওই চিকিৎসকের স্ত্রীর ছোট বোন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে মনিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রজিউল্লাহ খান বলেন, চিকিৎসক রাফসান জানির বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে তাঁর স্ত্রীর ছোট বোন (শ্যালিকা) মামলা করেছে। আসামি গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।’

অভিযোগে বাদী জানায়, সে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা এলাকার বাসিন্দা। পরিবারে সবার ছোট এবং বর্তমানে একাদশ শ্রেণির ছাত্রী। কয়েক বছর আগে বিবাদীর সঙ্গে তার বড় বোনের বিয়ে হয়। ২০২০ সালের শেষের দিকে তার অন্তঃসত্ত্বা বোনকে দেখভালের জন্য বাদীকে নিয়ে আসেন বিবাদী। বিবাদী বাসায় বাদীকে পড়ালেখা করাতেন।

বাদী বলেন, ‘বাসায় পড়ানোর ছলে বিবাদী আমার খাতায় আপত্তিকর কথাবার্তা লিখতেন। আমাকে চিকিৎসক বানানোর স্বপ্ন দেখিয়ে কুপ্রস্তাব দিতেন। আমি আমার বোনকে বিষয়টি একাধিকবার বলার পরও তাতে তিনি কান দেননি। নিজের সংসার বাঁচাতে তিনি চুপ থাকতেন। সন্তান কিছুটা বড় হলে আমার বোন যশোর আইটি পার্কে চাকরি নেন। তখন খালি বাসায় একা পেয়ে বিবাদী আমার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়তেন। আমি বাধা দিয়েও তাঁকে থামাতে পারিনি। একপর্যায়ে আমি বিবাদীর প্রতি দুর্বল হয়ে পড়ি।’

বাদী বলেন, ‘এরপর নিজের সুবিধার জন্য বিবাদী আমাকে যশোর শহরের একটি হোস্টেলে তুলে দেন। সেখান থেকে বিভিন্ন সময় আমাকে নিয়ে ঘুরতে যেতেন। ২০২৫ সালের দিকে বিবাদী মনিরামপুরে একটি ক্লিনিকে চাকরি নেন। তখন তিনি মনিরামপুর পৌর শহরের মোহনপুর এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে গত বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত তিন মাস আমাকে স্ত্রী পরিচয় দিয়ে সেই বাসাতে রেখে আমার সঙ্গে অবস্থান করেন।’

বাদী আরও বলেন, ‘বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বিবাদী ওই বাসায় রেখে আমাকে একাধিকবার ধর্ষণ করেছেন। ওই সময় তিনি আমার ছবি এবং ভিডিও মোবাইলে ধারণ করে রেখেছেন। আমি পরিবারের কারও কাছে অভিযোগ করে পাত্তা পাইনি। গত মাসে বিবাদী মনিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক হিসেবে যোগ দেওয়ার পর থেকে আমার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

বর্তমানে আমি একটি ছাত্রী হোস্টেলে অবস্থান করছি। তবে বিবাদী এখনো বিভিন্ন সময় আমাকে মোবাইল ফোনে সেসব আপত্তিকর ছবি পাঠিয়ে ব্ল্যাকমেইল করার চেষ্টা করছে। আমি তাঁর হাত থেকে বাঁচতে সম্প্রতি হাতীবান্ধা থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছি। তাতে রক্ষা না পেয়ে মনিরামপুর থানায় মামলা করতে বাধ্য হয়েছি। আমি তাঁর শাস্তি চাই।’

এই বিষয়ে কথা বলতে অভিযুক্ত চিকিৎসক রাফসান জানির মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে। সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে পারিবারিক সমস্যার কথা বলে তিনি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

এ বিষয়ে মনিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তা ফাইয়াজ আহমেদ ফয়সাল বলেন, ‘রাফসান জানি গত মাসে আমাদের হাসপাতালে মেডিকেল অফিসার হিসেবে যোগ দিয়েছেন। পারিবারিক সমস্যার কথা বলে তিনি ছুটি নিয়ে গত শনিবার থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত আছেন। তবে ধর্ষণ মামলার বিষয়ে কিছু জানতে পারিনি।’

কনটেন্ট ক্রিয়েটর রাকিব হত্যা: দুই আসামির দোষ স্বীকার, দুজন রিমান্ডে

মাকে বের করে দিয়ে ঘরে আগুন দিল মাদকাসক্ত ছেলে

আনোয়ারায় মা-মেয়ের লাশ উদ্ধারের ঘটনায় মামলা, স্বামী গ্রেপ্তার

ষাটগম্বুজ থেকে সুন্দরবন, ঈদে পর্যটক বরণে প্রস্তুত বাগেরহাটের ১৬ স্পট

ঘর থেকে ঢাকা মেডিকেলের সাবেক শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার

কৃষকদের ফসল সুরক্ষায় ইনস্যুরেন্স চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে: কৃষিমন্ত্রী

চলন্ত ট্রেনে শিশুর জন্ম

বাগেরহাটে ঈদের প্রধান জামাত ষাট গম্বুজ মসজিদে, প্রস্তুতি সম্পন্ন

চলন্ত অটোরিকশার ওপর গাছ পড়ে নিহত ১, আহত ২

পটিয়ায় ৩ বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১, আহত অন্তত ১৫