চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (বিএসসি) ও মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের একাধিক প্রকল্প, চুক্তি এবং নিয়োগপ্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ ঘটনায় চার সদস্যের একটি অনুসন্ধান দল গঠন করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জাহাজ কেনার ক্ষেত্রে প্রায় ৪৮৬ কোটি টাকার আর্থিক অসংগতির অভিযোগের ভিত্তিতে এই অনুসন্ধান শুরু হয়।
দুদক সূত্র জানায়, তিনটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে পাওয়া একটি লিখিত অভিযোগ আমলে নিয়ে চলতি বছরের ১১ জানুয়ারি অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন। পরে ৫ মার্চ এ বিষয়ে চার সদস্যের একটি অনুসন্ধান টিম গঠন করা হয়। দলের নেতৃত্বে রয়েছেন দুদকের উপপরিচালক মো. নাজমুচ্ছায়াদাত।
অভিযোগে বলা হয়েছে, বিভিন্ন ওপেন সোর্স তথ্য, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নথি, অভ্যন্তরীণ রেকর্ড এবং নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিগত সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করে প্রাথমিক বিশ্লেষণ চালানো হয়। এতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন ও মোংলা বন্দরসংশ্লিষ্ট একাধিক প্রকল্প, চুক্তি এবং নিয়োগপ্রক্রিয়ায় কাঠামোগত অনিয়ম, সিদ্ধান্ত গ্রহণে অস্বচ্ছতা ও অস্বাভাবিক আর্থিক লেনদেনের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
প্রাথমিক বিশ্লেষণে আরও দেখা গেছে, কিছু নির্দিষ্ট প্রকল্পকে ঘিরে এসব অনিয়মের সূত্র পাওয়া গেলেও অনুসন্ধান বিস্তৃত হলে এতে প্রভাবশালী সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাদের পরোক্ষ সম্পৃক্ততার বিষয়ও সামনে আসতে পারে।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের বর্তমান চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মুনিরুজ্জামান আগে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে চীন থেকে জাহাজ কেনার একটি বড় প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ওই প্রকল্পে প্রায় ২ হাজার ৪৮৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ছয়টি জাহাজ কেনার পরিকল্পনা থাকলেও পরে একই অর্থমূল্যে চারটি জাহাজ সংগ্রহ করা হয়—এমন তথ্য উঠে এসেছে। এতে প্রায় ৪৮৬ কোটি টাকার আর্থিক অসংগতির বিষয়টি আলোচনায় এসেছে, যা পৃথকভাবে পর্যালোচনায় রয়েছে।
এ ছাড়া অপরিশোধিত তেল পরিবহনের একটি দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতেও বাজারমূল্যের তুলনায় প্রতি টনে অতিরিক্ত ৩০ থেকে ৫০ মার্কিন ডলার পরিশোধের তথ্য পাওয়া গেছে বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। এতে বছরে কয়েক শ কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয়ের সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, এসব প্রকল্প ও চুক্তি থেকে অর্জিত অর্থের একটি অংশ বেনামি সম্পদ ক্রয় এবং বিদেশে অর্থ স্থানান্তরের মাধ্যমে ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টা শহরে একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আবাসিক সম্পদ কেনার তথ্যও প্রাথমিকভাবে পাওয়া গেছে।
দুদক সূত্র জানিয়েছে, প্রাথমিক তথ্য বিশ্লেষণে বিষয়টি বিচ্ছিন্ন অনিয়মের ঘটনা নয়; বরং দীর্ঘমেয়াদি ও বহুস্তরে আর্থিক কাঠামোর অংশ হতে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট প্রকল্প, চুক্তি, নিয়োগপ্রক্রিয়া এবং অর্থের উৎস–লেনদেনের বিষয়ে গভীর অনুসন্ধান চালানো হবে।