শিক্ষক নিয়োগ বোর্ড ভণ্ডুল করতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট (টিএইচএম) বিভাগের সভাপতি মো. শরিফুল ইসলামকে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদের বিরুদ্ধে। আজ বুধবার সকাল ৮টায় ঝিনাইদহে তাঁর নিজ বাসা থেকে শিক্ষক শরিফুল ইসলামকে অপহরণ করা হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে শিক্ষক অপহরণের প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবন ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মুখে সাড়ে ৪ ঘণ্টা পর শিক্ষক শরিফুল ইসলামকে তাঁর নিজ বাসায় পৌঁছে দেন সাহেদ আহম্মেদ।
সূত্র জানায়, আজ সকাল ১০টায় ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট (টিএইচএম) বিভাগের নিয়োগ বোর্ড অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। এ উদ্দেশ্যে শিক্ষক শরিফুল ইসলাম সকাল ৮টার দিকে ঝিনাইদহে তাঁর নিজ বাসা থেকে ক্যাম্পাসের উদ্দেশে রওনা হন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ তাঁকে একটি মোটরসাইকেলে অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যান বলে অভিযোগ ওঠে। শিক্ষক শরিফুলের বাসার একটি সিসি ক্যামেরা ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, একটি মোটরসাইকেলে করে সাহেদ শিক্ষক শরিফুলকে নিয়ে যাচ্ছেন।
ক্যাম্পাস সূত্রে জানা গেছে, বিভাগের সভাপতি অনুপস্থিত থাকায় আজ সকাল ১০টায় ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের নিয়োগ বোর্ড শুরু হওয়ার কথা থাকলেও তা ১ ঘণ্টা বিলম্বে বেলা ১১টায় শুরু হয়। ইতিমধ্যে বোর্ডের লিখিত পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত (আজ বেলা ৩ টা) অপহরণ করা বলে অভিযোগ থাকা ওই শিক্ষক বোর্ডে উপস্থিত হননি।
এদিকে দুপুর ১২টার দিকে সাংবাদিকেরা অভিযুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদের কাছে জানতে চাইলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘আমি তাঁকে অপহরণ করব কেন? তিনি কোথায় আছেন, তা আমি জানি না।’
বেলা পৌনে ১টায় তিনি ফেসবুক পোস্টে শিক্ষক শরিফুল তাঁর সঙ্গে ছিলেন বলে স্বীকার করে জানান, ‘প্রিয় শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক ভাইয়েরা, আমার অবস্থান সুস্পষ্ট। আজ সকালে টিএইচএম বিভাগের সম্মানিত চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম জুয়েল নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিলেন। সে কারণে তিনি আমাকে সকালে ফোন দেন এবং আমি নিজে সশরীরে গিয়ে তাঁকে নিয়ে আসি। সহকারী অধ্যাপক শরিফুল ইসলাম জুয়েল আমার দীর্ঘদিনের পরিচিত ছোট ভাই।’
পরে বেলা ১টা ১৯ মিনিটের দিকে ওই শিক্ষককে সঙ্গে নিয়ে ফেসবুক লাইভে আসেন শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ। লাইভে সাহেদ আহম্মেদ শরিফুলকে কথা বলতে আহ্বান জানালে শিক্ষক শরিফুল বলেন, ‘আমি বাসায় আছি, নিরাপদে আছি।’