হোম > সারা দেশ > ঢাকা

এলপিজির সংকট কাটছে না শিগগির

ফয়সাল আতিক, ঢাকা

ফাইল ছবি

দেশে এলপি গ্যাসের তীব্র সংকট শিগগির অবসানের কোনো আভাস নেই। জ্বালানি মন্ত্রণালয় পর্যাপ্ত মজুতের কথা বললেও এলপি গ্যাস আমদানিকারকেরা বলছেন ভিন্ন কথা। তাঁরা বলছেন, সরবরাহ সংকটই এই অবস্থার কারণ।

এলপিজি সংকটের মধ্যে পাইপলাইনে গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়ায় মানুষের ভোগান্তি আরও বেড়েছে। সুযোগ বুঝে বেড়েছে বৈদ্যুতিক চুলা ও রাইস কুকারের দাম। এলপিজি সরবরাহে সংকটের চাপ পড়েছে পরিবহন খাতেও।

এদিকে এলপি গ্যাসের সরবরাহ ঠিক করতে সরকার কোম্পানিগুলোর আমদানির কোটা বাড়ানোসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এলসি (ঋণপত্র) খোলার পর এলপি গ্যাস দেশে আসতে কমপক্ষে ১৯ থেকে ৪৩ দিন লাগবে।

এলপি গ্যাস সংকটের সমাধান কবে নাগাদ হতে পারে, জানতে চাইলে অন্তর্বর্তী সরকারের জ্বালানি উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান গতকাল শনিবার আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘এলপিজির ৯৮ শতাংশ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হাতে। সরকারের কাছে মাত্র ২ শতাংশ। সংকটের কারণগুলো আমরা কয়েক দিন ধরে ব্যাখ্যা করছি। তারা ধর্মঘট করেছিল। এখন প্রত্যাহার করেছে। আশা করি ঠিক হয়ে যাবে।’

এলপিজির সরবরাহ সংকটের কারণে এক মাস ধরে ভোগান্তিতে পড়েছেন গ্রাহকেরা। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে দ্বিগুণ দামে বিক্রি হচ্ছে এলপিজির সিলিন্ডার। কোথাও কোথাও বাড়তি দামেও পাওয়া যাচ্ছে না। দেশে শীতকালে এলপি গ্যাসের চাহিদা প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার টন। গত ডিসেম্বরে সব মিলিয়ে আমদানি হয়েছে ১ লাখ ২৭ হাজার টন। এরপরও সংকট কমেনি। পাড়ামহল্লার বেশির ভাগ এলপি গ্যাস সিলিন্ডারের দোকান বন্ধ রয়েছে।

ভোক্তা ও এলপি গ্যাস খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডিসেম্বরের মাঝামাঝি থেকে বাজারে এলপি গ্যাসের সরবরাহে ঘাটতি দেখা দেয়। দিনে দিনে এ সংকট তীব্র হয়। এর সুযোগ লুফে নেন অসাধু ব্যবসায়ীরা।

লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়াতে থাকেন দাম। তবে এ সংকট নিরসনে শুরুতে কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। জ্বালানি মন্ত্রণালয় দেশে পর্যাপ্ত এলপি গ্যাসের মজুত থাকার দাবি করলেও ব্যবসায়ী ও সরবরাহকারীরা এর সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেন। ৪ জানুয়ারি এলপিজির বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিল মন্ত্রণালয়। তবে এক সপ্তাহ পরও জোরালো কোনো ব্যবস্থা দেখা যায়নি।

সংকটে গ্রাহকদের ভোগান্তি এখন চরমে পৌঁছেছে। মগবাজারের বাসিন্দা রতন মল্লিক বলেন, আগে ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সকালে কিছুক্ষণের জন্য পাইপলাইনে গ্যাস পাওয়া যেত। কিন্তু এক সপ্তাহ ধরে বাসায় লাইনের গ্যাস নেই বললেই চলে। বাধ্য হয়ে পাশের এলাকায় এক আত্মীয়ের বাসা থেকে রান্না করে আনছেন। বাজারে প্রতিটি ইলেকট্রিক চুলা, রাইস কুকারের দাম ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা বেড়ে গেছে।

মানিকদী বাজারের সবজি বিক্রেতা শফিকুল আলম বলেন, গ্যাস সংকটের কারণে মানুষ রান্না কমিয়ে দেওয়ায় কয়েক দিন ধরে সবজি বিক্রিও খুব কম হচ্ছে।

অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা শফিকুল আলম গতকাল নিজের ফেসবুকে লিখেছেন, ‘গ্যাস সংকট। বাসার ছাদবাগানের এক কোণে রান্নার কাজ চলছে লাকড়ি দিয়ে ইটের চুলায়।’ ছাদে রান্না করার চারটি ছবিও দিয়েছেন তিনি।

একটি বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা শ্যামল সরকার বলেন, গ্যাসের সংকট কৃত্রিম। কারণ দ্বিগুণ দাম দিলে প্রতিটি দোকানেই গ্যাস সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে।

ময়মনসিংহ শহরের চরপাড়ার বাসিন্দা মারুফ হাসান ইমন বলেন, ডিসেম্বরের মাঝামাঝিতে ১২ কেজি ওজনের একটি সিলিন্ডার ১ হাজার ৮০০ টাকায় পাওয়া গেছে। যদিও সরকারনির্ধারিত মূল্য ছিল ১ হাজার ২৫৩ টাকা। জানুয়ারির শুরুতে শহরের কোথাও এলপিজি সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে বৈদ্যুতিক চুলায় রান্না করতে হচ্ছে।

পরিবহন খাতেও সংকট

এলপিজির কারণে পরিবহন খাতও সংকটে পড়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ এলপিজি অটো গ্যাস স্টেশন অ্যান্ড কনভারশন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মো. সিরাজুল মাওলা। গতকাল ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, দেশে প্রায় এক হাজার এলপিজি অটো গ্যাস স্টেশন রয়েছে। এর ওপর ভিত্তি করে প্রায় দেড় লাখ যানবাহন এলপিজিতে রূপান্তর করা হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে তীব্র এলপিজি সংকটের কারণে প্রায় সব অটো গ্যাস স্টেশন কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। এতে স্টেশন মালিকদের পাশাপাশি এলপিজিচালিত যানবাহনের মালিক ও চালকেরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এলপিজিতে চলা যানগুলোর বেশির ভাগ এখন জ্বালানি তেলে চলছে। যানবাহনে মাসে এলপিজির চাহিদা ১৫ হাজার টন।

সরবরাহ সংকটকে কারণ বলছে কোম্পানিগুলো

জ্বালানি মন্ত্রণালয় বলেছে, দেশে এলপিজির পর্যাপ্ত মজুত আছে। স্থানীয় খুচরা বিক্রেতারা বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করেছেন। যদিও বিশ্ববাজারে মূল্যবৃদ্ধি এবং জাহাজ সংকট ও কিছু কিছু কার্গোর (জাহাজ) ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় আমদানি পর্যায়েও কিছু সংকটের উদ্ভব হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, গত নভেম্বরে এলপিজির আমদানির পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৫ হাজার টন। ডিসেম্বরে বেড়ে হয়েছে ১ লাখ ২৭ হাজার টন। তবে সরকারি এই হিসাবের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন এলপিজি আমদানির সঙ্গে যুক্ত একাধিক ব্যবসায়ী।

দেশে ২৮টি এলপিজি কোম্পানির মধ্যে ২৩টির আমদানির অনুমোদন রয়েছে। কোম্পানিগুলোর আমদানির ঊর্ধ্বসীমা রয়েছে। সূত্র বলেছে, কয়েকটি কোম্পানি দীর্ঘদিন ধরে আমদানি সীমা বাড়ানোর দাবি জানালেও অনুমোদন পাচ্ছিল না। তবে গত বৃহস্পতিবার জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে ঊর্ধ্বসীমা বৃদ্ধি ও এলপিজিকে গ্রিন পণ্য হিসেবে বিবেচনাসহ বেশ কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সংকটের কারণ জানতে চাইলে ওমেরা এলপিজির পরিচালক আজম জে. চৌধুরী বলেন, সরবরাহ সংকটই এর অন্যতম কারণ হতে পারে। প্রকৃত অর্থে সংকট না থাকলে এভাবে দাম বাড়িয়ে দ্বিগুণ করা কিংবা বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করা কঠিন। কারণ বাজারে এক ডজনের বেশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এলপিজি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তিনি বলেন, তাঁর ধারণা সাম্প্রতিক সময়ে কিছু এলসি পণ্য দেশে আসেনি। সরবরাহ কমে গেলে নানা ধরনের অসাধু ব্যবসা শুরু হয়। এ খাতে সরকারের ব্যবস্থাপনাটাও বেশ দুর্বল, বলতে হবে। না হলে এত লম্বা সময় সংকট থাকে কী করে? সংকটের সুযোগে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী লাভবান হচ্ছেন।

এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (এলওএবি) সভাপতি ও ডেলটা এলপিজি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, ‘সাপ্লাই চেইন বাধাগ্রস্ত হয়েছে বলেই এমনটি হয়েছে। এটি তো স্বীকার করতেই হবে। আমরা সরকারকে বিষয়টি অবগত করেছিলাম। সরকার যদি বলে সরবরাহে সংকট নেই, তাহলে সেখানে আমাদের কিছু বলার নেই। তবে বাস্তব চিত্র সবার জানা, আমি কিছু বলতে চাই না।’

সংকট যে শিগগির কাটছে না তার আভাস পাওয়া গেল আমিরুল হকের কথায়। তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার সরকার অনেক পদক্ষেপ নিয়েছে। পাঁচটি কোম্পানির আমদানি কোটা বাড়িয়েছে। এলপিজিকে গ্রিন পণ্য হিসেবে বিবেচনার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংককে চিঠি দিয়েছে। আগামীকাল সোমবার থেকে সবাই চেষ্টা করবে নতুন করে আমদানি করার। তিনি বলেন, এলসি চালু হওয়ার পর পণ্য যদি জাহাজে লোড হয় তারপর দেশে আসতে ৩৪ থেকে ৪৩ দিন লাগবে (আর্জেন্টিনা ও ইউএসএর ক্ষেত্রে)। সৌদি আরব কিংবা কাতার থেকে আনা হলে ১৯ দিন লাগবে।

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার গতকাল এক বিবৃতিতে বলেন, দেশে এলপি গ্যাসের পর্যাপ্ত মজুত থাকা সত্ত্বেও একটি স্বার্থান্বেষী মহল পরিকল্পিতভাবে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে সাধারণ জনগণকে দুর্ভোগে ফেলছে। এ ধরনের অমানবিক ও জনস্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাস ঢুকল ফলের দোকানে

ময়লা ফেলাকে কেন্দ্র করে পারিবারিক সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী নিহত

মুছাব্বির হত্যায় গ্রেপ্তারদের মধ্যে দুজন আপন ভাই, আরেক ভাই পলাতক: ডিবি

গ্রামীণ ফেব্রিকস কারখানায় হামলা ও কর্মকর্তাদের অবরুদ্ধ করার ঘটনায় ৬ শ্রমিক গ্রেপ্তার

মানিকগঞ্জের ডেলটা হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় প্রসূতি মৃত্যুর অভিযোগ

বাউফলে দুই ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ যুবকের বিরুদ্ধে, সহযোগিতার জন্য মা গ্রেপ্তার

গোপালপুরে পানির ট্যাংকিতে পড়ে স্কুলছাত্রের মৃত্যু

চট্টগ্রামে পোর্ট কলোনিতে মোটরসাইকেলচালকের ছুরিকাহত মরদেহ, পুলিশ বলছে হামলা অন্য এলাকায়

ব্যাংক থেকে টাকা তুলে বের হতেই ছোঁ মেরে নিয়ে গেল ছিনতাইকারী

বাগেরহাটে এনসিপির ১২ নেতার পদত্যাগ