শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলায় ব্যবসায়ী খোকন চন্দ্র দাসকে (৫০) কুপিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন হয়েছে। আজ শনিবার (৩ জানুয়ারি) বিকেলে জেলা শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট, শরীয়তপুর জেলা শাখার উদ্যোগে মানববন্ধন হয়।
মানববন্ধনে সনাতন ধর্মাবলম্বী বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। তাঁরা এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষী ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
মানববন্ধনে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ডা. হেমন্ত দাস বলেন, ‘খোকন দাস একজন সৎ ও পরিশ্রমী ব্যবসায়ী ছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ফার্মেসি ব্যবসার পাশাপাশি বিকাশ ও নগদের এজেন্ট হিসেবে কাজ করতেন। বাড়ি ফেরার পথে কয়েকজন দুর্বৃত্ত তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গুরুতর জখম করে এবং পরে তাঁর শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ ধরনের নৃশংস হত্যাকাণ্ড সমাজে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।’
বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের জেলা শাখার সভাপতি নারায়ণ চন্দ্র ব্যাপারী বলেন, ‘দেশব্যাপী সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা, লুটপাট, মামলা ও বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। সংখ্যালঘুদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব।’
মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন সংগঠনের জেলা শাখার নির্বাহী সভাপতি চঞ্চল মজুমদার, সিনিয়র সহসভাপতি পবিত্র মণ্ডল, সাধারণ সম্পাদক নৃপেন দেবনাথ, সাংগঠনিক সম্পাদক গোপাল দত্ত, সাবেক আহ্বায়ক সুশীল চন্দ্র দেবনাথ এবং নড়িয়া উপজেলা শাখার সভাপতি রতন কুমার দে।
মানববন্ধন শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি ঢাকা-শরীয়তপুর সড়ক প্রদক্ষিণ করে পালং উত্তর বাজারে গিয়ে শেষ হয়। এ সময় খোকন দাস হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত, দ্রুত বিচার ও সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়।
প্রসঙ্গত, গত বুধবার রাতে বাড়ি ফেরার পথে দুর্বৃত্তদের হামলায় অগ্নিদগ্ধ হন ব্যবসায়ী খোকন চন্দ্র দাস। আজ সকালে রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তিনি ডামুড্যা উপজেলার কনেশ্বর ইউনিয়নের তিলই গ্রামের পরেশ দাসের ছেলে।