বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ফেনীর মানুষের যেমন বিএনপির কাছে অনেক দাবি রয়েছে, তেমনি বিএনপিরও ফেনীবাসীর কাছে একটি বড় দাবি আছে—ধানের শীষকে বিজয়ী করা। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া ফেনীর মেয়ে। এখানে ধানের শীষ বিজয়ী হলে ফেনীর সম্মানই বাড়বে।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ফেনী সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তারেক রহমান।
তারেক রহমান বলেন, ফেনী সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার পৈতৃক এলাকা। এখানে ধানের শীষ বিজয়ী হলে তাঁর সম্মান আরও বৃদ্ধি পাবে। এ সম্মান সমুন্নত রাখার আহ্বান জানান তিনি।
বিএনপির চেয়ারম্যান আরও বলেন, বিএনপি মানুষের জন্য রাজনীতি করে এবং জনগণই দলের রাজনৈতিক শক্তির মূল উৎস। প্রায় ১৭ বছর পর দেশে ফিরে মানুষের কল্যাণে কিছু পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হলে ধানের শীষকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করতে হবে।
শহর ও গ্রামের পরিশ্রমী নারী সমাজের জন্য ফ্যামিলি কার্ড চালুর পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, কেউ কেউ প্রশ্ন করছে—এই অল্প সহযোগিতায় কী হবে। কিন্তু এই সহায়তায় যদি একটি পরিবার অন্তত এক সপ্তাহ স্বস্তি পায়, তাতেই বিএনপি সফল বলে মনে করে।
তিনি আরও বলেন, কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড চালু করা হবে। এর মাধ্যমে তাঁরা বিনা মূল্যে সার ও বীজ পাবেন। জনগণের সমর্থন পেলে এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।
ভোটের দিন ভোরে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ে ভোটকেন্দ্রে যেতে হবে। ভোটকেন্দ্রের সামনে ফজরের নামাজ আদায় করে সারা দিন কেন্দ্র পাহারা দিয়ে ফলাফল জানা পর্যন্ত অবস্থান করতে হবে।
রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে স্বৈরাচার পালিয়ে গেছে। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে আক্রমণ করে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ থাকলেও তিনি তা করবেন না উল্লেখ করে বলেন, এতে জনগণের কোনো লাভ নেই। জনগণের লাভ হবে উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক রাখলে।
ফেনীতে একটি মেডিকেল কলেজ স্থাপনের পাশাপাশি সারা দেশে গ্রামাঞ্চলের নারী ও শিশুদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হেলথ কেয়ার ব্যবস্থা চালুর কথাও জানান তিনি। তারেক রহমান বলেন, ছোটখাটো অসুস্থতায় মানুষ যেন ঘরে বসেই চিকিৎসা পায়, সে ব্যবস্থা করা হবে।
২০২৪ সালের বন্যার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, উজানের পানিতে ফেনী, নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে এসব এলাকায় খাল খনন কর্মসূচি নেওয়া হবে।
তরুণ ও যুবসমাজের কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, ফেনী অঞ্চলে ইপিজেড স্থাপন করা হবে, যাতে স্থানীয়ভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়। পাশাপাশি বিদেশগামীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে বিদেশে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তারেক রহমান আরও বলেন, দেশের মানুষ এমন পরিবর্তন চায়, যাতে তাদের কষ্ট লাঘব হয় এবং তারা নিরাপদে বসবাস করতে পারে। এ জন্য আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাকে কঠোর হাতে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
বিগত সরকারের বিরুদ্ধে দেশের সম্পদ লুটপাট করে বিদেশে পাচারের অভিযোগ তুলে তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় গেলে দুর্নীতি ও অনিয়মের লাগাম টেনে ধরা হবে।’ সরকার গঠনের সুযোগ পেলে শহীদ জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার রেখে যাওয়া উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এগিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকারও করেন বিএনপির চেয়ারম্যান।
সমাবেশে তারেক রহমান ফেনী, নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর জেলার ১৩টি সংসদীয় আসনের বিএনপির প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন এবং তাঁদের বিজয়ী করার আহ্বান জানান।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ ফরিদ বাহারের সভাপতিত্বে এবং সদস্যসচিব আলাল উদ্দিন আলালের সঞ্চালনায় সমাবেশে জেলা ও কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে দুপুরে চট্টগ্রাম নগরীর ঐতিহাসিক পলোগ্রাউন্ড মাঠে নির্বাচনী মহাসমাবেশে অংশ নেন তারেক রহমান। ফেনীর জনসভা শেষে তিনি কুমিল্লার পথে রওনা হন।