ঢাকার কেরানীগঞ্জের কালিন্দী ইউনিয়নের মুক্তিরবাগ এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে মা ও মেয়ের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ৯৯৯ নম্বর থেকে ফোন পেয়ে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ দুটি উদ্ধার করে। নিহত মা-মেয়ে হলো রোকেয়া রহমান (৩২) ও তাঁর মেয়ে ফাতেমা (১৪)।
এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ চারজনকে হেফাজতে নিয়েছে। তাঁরা হলেন শিক্ষিকা মীম, মীমের স্বামী হুমায়ূন, বড় বোন নুরজাহান ও ফাতেমার বান্ধবী মাহী।
প্রতিবেশী অলি আহমদ জানান, বাসাটি ফাতেমার শিক্ষিকার। প্রায় ২১ দিন আগে মা-মেয়েকে হত্যার পর লাশ ঘরের ভেতর রেখে স্বাভাবিকভাবে বসবাস করছিলেন অভিযুক্ত ব্যক্তিরা। আশপাশে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা বলতেন, ইঁদুর মারা গেছে। পরে দুর্গন্ধ তীব্র হলে স্থানীয় বাসিন্দারা ৯৯৯ নম্বরে ফোন দেন। তখন পুলিশ এসে তল্লাশি চালিয়ে একটি লাশ খাটের নিচে এবং আরেকটি বাথরুমের ছাদ থেকে উদ্ধার করে।
নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরা জানান, মা ও মেয়ে নিখোঁজ হওয়ার পর রোকেয়া রহমানের স্বামী শাহীন এ বিষয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। বিভিন্ন স্থানে খোঁজ নিলেও কোনো সন্ধান পাননি। বৃহস্পতিবার রাতে পুলিশ তাঁদের লাশ উদ্ধার করে।
নিহত রোকেয়ার ভাই জাহিদ জানান, ‘গত ২৫ ডিসেম্বর আমার বোন ও ভাগনি নিখোঁজ হলে আমরা কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় ২৬ ডিসেম্বর জিডি করি। আমাদের শুরু থেকেই গৃহশিক্ষিকাকে সন্দেহ হচ্ছিল। আমি পুলিশকে কয়েকবার জানিয়েছি। পুলিশ গুরুত্ব দেয়নি। আমার ভাগনির গলায় স্বর্ণের চেইন ছিল। বোনের গলায়ও স্বর্ণের চেইন ছিল। চেইন নেওয়ার জন্যই হয়তো হত্যা করেছে মীম।’
কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম সাইফুল আলম জানান, প্রাথমিকভাবে এটি একটি পরিকল্পিত হত্যা বলে মনে হচ্ছে। আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। হত্যাকাণ্ডের পেছনের কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ দুটি মর্গে পাঠানো হয়েছে। মামলার প্রস্তুতি চলছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শিক্ষিকা মীম, মীমের স্বামী হুমায়ূন, বড় বোন নুরজাহান ও ফাতেমার বান্ধবী মাহীকে পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।