ময়মনসিংহের আনন্দ মোহন কলেজের শিক্ষার্থী শাওন হত্যার ঘটনায় মানববন্ধন কর্মসূচি, সড়ক অবরোধ ও পুলিশ সুপার কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থীরা। পুলিশ প্রশাসনকে রাত ৮টা পর্যন্ত আলটিমেটাম দিয়ে বিক্ষোভ শেষ করেন তারা।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ২টায় আনন্দ মোহন কলেজ মাঠে নিহত নুরুল্লাহ শাওনের (২৬) জানাজা হয়। পরে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আসে। জানাজায় ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ শিক্ষার্থীদের সমর্থন জানিয়ে রাত ৮টা পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছেন প্রশাসনকে।
ময়মনসিংহে ব্রহ্মপুত্র নদের ওপারে ঘুরতে গিয়ে ‘কিশোর’ ছিনতাইকারী দলের কবলে পড়েন আনন্দ মোহন কলেজে পড়ুয়া দুই শিক্ষার্থী। তাঁদের একজন পালিয়ে ফিরতে পারলেও দুই দিন ধরে নিখোঁজ ছিলেন অপর এক শিক্ষার্থী।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাত পৌনে ১১টার দিকে ময়মনসিংহ শহরের জয়নুল আবেদিন উদ্যান এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে ভেসে উঠে নিখোঁজ ছাত্রের মরদেহ।
পরে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বরে ৯৯৯ ফোন পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে নিয়ে যায়। মারা যাওয়া শিক্ষার্থীর নাম নুরুল্লাহ শাওন। তিনি ময়মনসিংহ নগরের আনন্দ মোহন কলেজের রসায়ন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন। বাড়ি কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের চর জাকালিয়া গ্রামে।
আনন্দ মোহন কলেজের শিক্ষার্থী তানজিল খান বলেন, বেলা ২টায় কলেজ মাঠে শাওনের জানাজা হয়। পরে সেখানে হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন করা হয়। মানববন্ধন শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিলে পুলিশ রাত ৮টার মধ্যে সকল আসামি গ্রেপ্তারের আশ্বাস দেন।
ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘আসামিদের শনাক্ত করা হয়েছে। আশা করছি খুব দ্রুত তাদের ধরে ফেলব। চুরি-ছিনতাই বাড়লেও প্রতিনিয়ত তাদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার কথা জানান তিনি।
জানাজায় অংশ নিয়ে বিচারের দাবির প্রশ্নে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করে ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ বলেন, রাত ৮টার মধ্যে পুলিশ আসামিদের গ্রেপ্তার করতে ব্যর্থ হলে আমরা পুলিশকে গ্রেপ্তার করবো।