হোম > সারা দেশ > রাজশাহী

আইসিইউ না পেয়ে মরছে শিশু

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী

ফাইল ছবি

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) শয্যাসংকটে শিশুমৃত্যু উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। গত দুই সপ্তাহে আইসিইউ সুবিধা না পেয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৪৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। গতকাল শুক্রবার সকালেও আইসিইউ শয্যার জন্য ৪১ জন শিশু ওয়ার্ডগুলোতে অপেক্ষা করছিল।

অন্যদিকে এই হাসপাতালে ২০টি শয্যা এলেও আইসিইউর প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম বরাদ্দ হয়নি। তা ছাড়া রাজশাহী শিশু হাসপাতালের ভবন হলেও সেটি চালু করা হচ্ছে না।

রামেক হাসপাতালে বর্তমানে ৪০ শয্যার একটি আইসিইউ ওয়ার্ড রয়েছে। এগুলোর মধ্যে ১২টি শয্যা প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য এবং ১৬টি শয্যা বয়স্ক রোগীদের জন্য নির্ধারিত। শিশুদের জন্য নির্ধারিত রয়েছে ১২টি শয্যা। অবশ্য কোনো দাপ্তরিক অনুমোদন ছাড়াই হাসপাতালের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় এই আইসিইউ চালু রয়েছে। সেই আইসিইউর একটি শয্যার জন্য অপেক্ষায় থাকেন মুমূর্ষু শিশুদের স্বজনেরা। টানা কয়েক দিন অপেক্ষার পরও শয্যা মেলে না বলে জানিয়েছেন শিশুরোগীদের অভিভাবকেরা।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, রাজশাহী ছাড়াও খুলনা ও রংপুর বিভাগ থেকে অনেক শিশুকে উন্নত চিকিৎসার জন্য এই হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। কিন্তু প্রয়োজন হলেও অনেক শিশুকে আইসিইউতে একটি শয্যা দেওয়া যায় না। ফলে সাধারণ ওয়ার্ডে অনেক শিশুর মৃত্যু হয়।

হাসপাতালের আইসিইউ বিভাগের ইনচার্জ ডা. আবু হেনা মোস্তফা কামাল বলেন, ১০ থেকে ২৬ মার্চ পর্যন্ত আইসিইউতে ভর্তির সুযোগ না পেয়ে ৪৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই শিশুদের আইসিইউতে নিতে স্বজনেরা সিরিয়াল দিয়েছিলেন। পরে যখন সিরিয়াল আসে, তখন আইসিইউ থেকে ফোন করে ডাকা হলে জানানো হয়, তাদের শিশু আর বেঁচে নেই।

ডা. মোস্তফা কামাল আরও জানান, সব সময় প্রায় অর্ধশত শিশুকে আইসিইউর জন্য অপেক্ষায় থাকতে হয়। অবস্থার উন্নতি হওয়ায় শুক্রবার সকালে চারজন শিশুকে আইসিইউ থেকে বের করে সাধারণ ওয়ার্ডে দেওয়া হয়েছে। ওই জায়গায় চারজন শিশুকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। কিন্তু তখনো অপেক্ষায় ছিল আরও ৪১ জন শিশু।

এদিকে রাজশাহীতে শিশুদের চিকিৎসার উন্নয়নে নগরের টিবি পুকুর এলাকায় প্রায় অর্ধকোটি টাকা ব্যয়ে ‘রাজশাহী শিশু হাসপাতাল’ নির্মাণ করা হয়েছে। এখানে ২০০টি শয্যা থাকবে। এর মধ্যে শিশুদের জন্য ১২টি আইসিইউ শয্যাও থাকার কথা। ভবন নির্মিত হলেও কয়েক বছর ধরে হাসপাতালটি চালু হয়নি প্রয়োজনীয় জনবল ও যন্ত্রপাতির অভাবে।

রামেক হাসপাতালেও ২০ শয্যার একটি শিশু আইসিইউ চালুর কথা। সেখানে ২০টি শয্যাও এসেছে। কিন্তু প্রয়োজনীয় অন্যান্য যন্ত্রপাতি এবং জনবলের অভাবে সেটিও পড়ে আছে দুই বছর ধরে।

ডা. মোস্তফা কামাল বলেন, শিশু হাসপাতালটি চালু হলে রামেক হাসপাতালে শিশু রোগীর চাপ অনেক কমে যেত। সেখানে ১২টি আইসিইউ শয্যায় শিশুদের চিকিৎসা হতো। পাশাপাশি রামেক হাসপাতালের ২০ শয্যার আইসিইউ চালু হলে পরিস্থিতি সামলানো যেত। এ দুই উপায়ে আইসিইউ সংকট অনেকটাই কমানো সম্ভব এবং অকালমৃত্যু থেকে অনেক শিশুকে রক্ষা করা সম্ভব। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ উদ্যোগী হবে বলে তিনি আশা করেন।

রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পি কে এম মাসুদ উল ইসলাম বলেন, উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের বিপুলসংখ্যক রোগীর চাপ সামলাতে গিয়ে হাসপাতালকে সক্ষমতার কয়েক গুণ বেশি সেবা দিতে হচ্ছে। তাঁরা তাঁদের সামর্থ্য অনুযায়ী চেষ্টা করে যাচ্ছেন।

পরিচালক জানান, হাসপাতালের দুটি শিশু ইউনিটে রোগী ভর্তি থাকে প্রায় ৭৫০ জন, যেখানে শয্যা রয়েছে মাত্র ১৬০টি। এই বিপুল রোগীর মধ্যে অন্তত ৫ শতাংশের আইসিইউ প্রয়োজন হলে প্রতিদিন ৩৫ থেকে ৪০ জন শিশুকে নিবিড় পরিচর্যায় নিতে হয়।

সংকট নিরসনে পদক্ষেপের কথা জানিয়ে পরিচালক বলেন, নতুন একটি পাঁচতলা ভবনে ৫০ শয্যার আইসিইউ কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হয়েছে। তবে প্রয়োজনীয় জনবল ও সরঞ্জামাদির অভাবে তা এখনো চালু করা সম্ভব হয়নি। জনবল ও সরঞ্জাম পেলেই দ্রুত এটি চালু করা হবে।

ললী ছড়ার অবৈধ স্থাপনা অপসারণের দাবিতে সোচ্চার এলাকাবাসী

ধানের গুদামে মজুত জ্বালানি তেল

সুনামগঞ্জে গরুর জন্য ধান কাটা নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, নিহত ১

নবীন ফ্যাশনের দোকানের ঘটনা ‘ভুল-বোঝাবুঝি’: দোকান মালিক সমিতি

ফরিদপুরে বন্ধ থাকা দুই পাম্পে অভিযান চালিয়ে মিলল ৫৪ হাজার লিটার তেল

জমিজমার বিরোধে তিন দফায় হামলা, নিরাপত্তার অভাবে বাড়িছাড়া পরিবার

খুলনায় শাবলের আঘাতে স্ত্রী নিহত, স্বামী গ্রেপ্তার

ওজোপাডিকোর অফিসে চোর, বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ১ ঘণ্টা

চুয়াডাঙ্গায় অর্ধশতাব্দী আগের ৭টি শক্তিশালী স্থলমাইন ধ্বংস

জৈন্তাপুরে মোবাইল কোর্টে ২টি নৌকা ধ্বংস, দুজনের কারাদণ্ড