ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে নরসিংদী-২ (পলাশ) আসনে ১০ দলীয় জোটের সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজনৈতিক অস্বস্তি ও টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়েছে। জোটের সমঝোতা অনুযায়ী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এই আসন জাতীয় নাগরিক পার্টিকে (এনসিপি) ছেড়ে দেওয়ার কথা থাকলেও জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মো. আমজাদ হোসাইন শেষ পর্যন্ত তাঁর প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি। এই অবস্থানে জোটের ভেতরে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে।
বুধবার জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছ থেকে জেলার ৫টি আসনে ৪০ জন প্রার্থী প্রতীক বরাদ্দ পান।
এদিকে পুরো ঘটনাকে ‘নাটক’ আখ্যা দিয়ে জোটের সিদ্ধান্ত অবমাননার অভিযোগ তুলেছেন নরসিংদী-২ আসনে এনসিপির প্রার্থী ও দলটির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক গোলাম সারোয়ার তুষার। তিনি বলেন, জোটের সিদ্ধান্ত অগ্রাহ্য করে প্রার্থিতা বহাল রাখা হয়েছে, যা রাজনৈতিক শিষ্টাচারের পরিপন্থী।
তুষার অভিযোগ করে বলেন, ‘দলীয় নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট প্রার্থী আমাকে নানাভাবে চাপ প্রয়োগ করেছেন যেন আমি প্রার্থিতা থেকে সরে দাঁড়াই। তাঁর কর্মী-সমর্থকদের একটি অংশ আমাকে মানসিক চাপে রেখেছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হয়েছে।’
তুষার আরও বলেন, ‘এই পরিস্থিতিতেও আমি ও আমার দল সহনশীল আচরণ করেছি। আমাদের জোটের লক্ষ্য একটি ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়া। কিন্তু জোটের ভেতরেই যদি ঐক্য না থাকে, তাহলে বৃহত্তর ঐক্য বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়বে।’
গতকাল মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) ছিল মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন। জোটগত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জামায়াতের প্রার্থীর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করার কথা থাকলেও তা করেননি তিনি।
জামায়াত প্রার্থীকে তাঁর বাসায় নেতা-কর্মীরা ঘিরে রাখায় তিনি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে পারেননি বলে দাবি জামায়াত নেতাদের। দলীয় সূত্র বলছে, প্রত্যাহারের উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হওয়ার আগেই নির্বাচনী এলাকার কর্মী-সমর্থকদের একাংশ নরসিংদী শহরের গাবতলী এলাকার আমজাদ হোসাইনের বাসায় জড়ো হন। এ সময় তাঁরা প্রার্থিতা প্রত্যাহারের বিরোধিতা করেন এবং বাসার গেটে তালা ঝুলিয়ে দেন। কর্মীদের স্লোগান ও অবস্থানের কারণে তিনি বাসা থেকে বের হতে পারেননি। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে বক্তব্য নিতে নরসিংদী-২ (পলাশ) আসনে জামায়াতের প্রার্থী, দলের জেলা সেক্রেটারি মো. আমজাদ হোসাইন এবং জেলা জামায়াতের আমির মুসলেহুদ্দীনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁদের পাওয়া যায়নি।