কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার দক্ষিণ-পশ্চিমে বঙ্গোপসাগর থেকে ১৬ মাঝিমাল্লাসহ একটি মাছ ধরার ট্রলার মিয়ানমারের কোস্ট গার্ড ধরে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত ২৩ মার্চ বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে যাওয়া ‘এফবি মা-বাবার দোয়া’ নামের ট্রলারসহ এসব জেলেকে আজ বুধবার (১ এপ্রিল) পর্যন্ত ফেরত দেওয়া হয়নি।
১৬ জেলের মধ্যে ১০ জনের বাড়ি লক্ষ্মীপুরের রামগতি ও কমলনগর উপজেলায়। অপর ছয়জন নোয়াখালী, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম ও ভোলার বাসিন্দা বলে জানা গেছে। এদিকে ১০ দিনেও মিয়ানমার থেকে ফেরত না পাঠানোয় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন লক্ষ্মীপুরের নিখোঁজ জেলে পরিবারের স্বজনেরা।
এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আজ দুপুরে লক্ষ্মীপুরের নিখোঁজ জেলেদের স্বজনেরা স্থানীয় জেলা প্রশাসনের কাছে আকুতি জানিয়েছেন। এ সময় ছয় জেলের পরিবারের স্বজনেরা উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।
ট্রলারমালিক মিজানুর রহমান জানান, গত ২৩ মার্চ মহেশখালী থেকে তাঁর ট্রলারটি নিয়ে ১৬ জন মাঝিমাল্লা বঙ্গোপসাগরে মাছ শিকারে যান। পরদিন থেকেই তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে ২৮ মার্চ মহেশখালী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।
মিজানুর রহমান বলেন, ‘অন্য জেলেদের মাধ্যমে জানতে পেরেছি, বাংলাদেশ জলসীমা থেকেই মিয়ানমার কোস্ট গার্ড তাঁদের আটক করে নিয়ে গেছে। জেলেদের তথ্য সংগ্রহ করে আমরা এরই মধ্যে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে লিখিতভাবে জানিয়েছি। তাঁদের উদ্ধারে আমরা জরুরি সরকারি হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’
নিখোঁজ ১৬ জেলের মধ্যে লক্ষ্মীপুরের রামগতির ৯ জন, কমলনগরের একজন ও নোয়াখালীর তিনজন রয়েছেন। এ ছাড়া কক্সবাজার, চট্টগ্রাম ও ভোলার আরও তিনজন জেলে ওই ট্রলারে ছিলেন।
নিখোঁজ জেলেরা হলেন লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার মো. জুয়েল, মো. নিরব, রাকিব হোসেন, মো. মেজবাহ উদ্দিন, সাদ্দাম হোসেন, মো. লিটন, ফরহাদ হোসেন, মো. তাহমীদ ও মো. তামজিদ। কমলনগর উপজেলার মো. অজি উল্লাহ। নোয়াখালীর মো. শাহজাহান, জাবের হোসেন ও মো. সোহাগ। চট্টগ্রামের পাহাড়তলী এলাকার কামাল হোসেন, ভোলার কবির হোসাইন ও কক্সবাজারের তারেক রহমান।
রামগতির চরপোড়াগাছা গ্রামের জেলে মেজবাহ উদ্দিনের স্ত্রী তাছলিমা জানান, তাঁর স্বামী, ভাশুর, ননদের স্বামী, ভাগনেসহ পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্য ওই ট্রলারে ছিলেন। ২৩ মার্চের পর থেকেই তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।
লক্ষ্মীপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সম্রাট খীসা বলেন, ‘আমরা ঘটনাটি জেনেছি। নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিষয়টি নিয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতেও যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে।’